বিজেপিকে অ্যাডভান্টেজ দিচ্ছে আপ আর তৃণমূল, ২০২৪-এর আগে ফের প্রমাণ দিল গুজরাত
বিজেপিকে অ্যাডভান্টেজ দিচ্ছে আপ আর তৃণমূল, ২০২৪-এর আগে ফের প্রমাণ দিল গুজরাত
গুজরাতের মহারণে ফের ধরাশায়ী কংগ্রেস। রেকর্ড আসনে জিতে টানা সপ্তমবার মোদী-রাজ্যে ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। আবারও একবার আম আদমি পার্টিকে কাজে লাগিয়ে অ্যান্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টরকে দুরমুশ করে ছাড়লেন মোদী-শাহরা। ভোট সমীকরণের অঙ্কে যে তাঁদের ধারেকাছে কোনও মস্তিষ্ক এখন নেই তা প্রমাণ করে দেখালেন তাঁরা।

মোদী-রাজ্যে এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্বিতা হয়েছিল। একেবারে পরিকল্পনামাফিক আম আদমি পার্টিকে জায়গা দিয়ে কংগ্রেসকে আইসিইউ-তে পাঠিয়ে দিল বিজেপি। কংগ্রেস শত চেষ্টা করেও বিজেপির সেই স্ট্র্যাটেজিকে রুখতে পারল না। আম আদমি পার্টিকে গুজরাতে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসকে ছত্রখান করে ছাড়ল বিজেপি। কংগ্রেস এবার ডোর টু ডোর প্রচার চালিয়েও বিজেপির ব্রহ্মাস্ত্রকে রুখতে পারল না।
আম আদমি পার্টি একইভাবে হিমাচলেও প্রবেশ করেছিল। কিন্তু হিমাচলে তাঁদের ভিত ছিল খুব নড়বড়ে। আম আদমি পার্টি সবথেকে বেশি জোর দেয় গুজরাতেই। কংগ্রেস নয়, তাঁরাই যে এবার গুজরাতে বিজেপির চ্যালেঞ্জার তা প্রচার শুরু করে। আসলে এসবই হয়েছে বিজেপির পরিকল্পনা মাফিক। বিজেপিই চেয়েছে আম আদমি পার্টিই যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তা প্রচারে সামনে আনা হোক। আর বিজেপিও আম আদমি পার্টিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছে।
এর ফলে কংগ্রেস প্রচারের আলো থেকেও সরে গিয়েছে। আম আদমি পার্টিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক ভাঙিয়েছে। আর কংগ্রেসি বিধায়কদের ভাঙিয়ে আনার কাজ তো সন্তর্পণে ৫ বছর ধরেই চালিয়ে গিয়েছে বিজেপি। ভোটের আগেও বিধায়কদের দলবদল করিয়ে কংগ্রেসের কোমর ভেঙে দিয়েছে। গোয়ার পর গুজরাতের নির্বাচনেও অ্যান্টি ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টরকে ধুলোয় মিশিয়ে আম আদমি পার্টির কাঁধে ভর দিয়ে কংগ্রেসকে পর্যুদস্ত করেছে বিজেপি।
গোয়ায় এবার শুধু আম আদমি পার্টিকে দিয়ে কাজ হয়নি, সেখানে তৃণমূলকেও কাজে লাগে বিজেপির। অন্তত কংগ্রেসের তেমনই অভিযোগ। অভিযোগ, কংগ্রেসকে ভাঙতে গোয়ায় তৃণমূলকে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কংগ্রেস সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও কোনও ফায়দা তুলতে পারেনি। বিজেপির কাছে হেরে গিয়েছে। এভাবে ২০২৪-এর আগে অন্য রাজ্যেও আম আদমি পার্টি ও তৃণমূল বিস্তারলাভ করে কংগ্রেসকে অসুবিধায় ফেলে দিচ্ছে আর সেই সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি।
শুধু মোদী-রাজ্যে নয় বহু রাজ্যেই কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাচ্ছে আম আদমি পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেস। আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে রাজ্যে বিজেপিকেই সুবিধা করে দিচ্ছে। আম আদমি পার্টির মতোই উত্তর-পূ্র্বের রাজ্যগুলিতে শাখা বিস্তার করছে তৃণমূল। সামনেই ত্রিপুরার ভোট, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস একই কাজ করে চলেছে। নিজেদেরকে বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জার বলে তুলে ধরে কংগ্রেসকে ছোটো করে দেখাচ্ছে তৃণমূল। আবার মেঘালয়েও সেই কাজ করে চলেছে তৃণমূল।
আম আদমি পার্টি বা তৃণমূল সুবিধা করে দিলেও কোথাও অবশ্য খর্ব হয় না বিজেপির কৃতিত্ব। কেননা কোথায় কাকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে সেই রাজনীতি তাঁরা করে দেখিয়ে দিয়েছে। এই ট্যাকটিস কাজে লাগানো মুখের কথা নয়। গুজরাতে আম আদমি পার্টি দিয়ে কংগ্রেসের ভোটচব্যাঙ্কে থাবা বসালো, উল্টোটাও তো হতে পারত, বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে ভেঙে কংগ্রেসকেও সুবিধা দিতে পারত। কিন্তু কংগ্রেস সেই খেলা খেলতে পারেনি, যেটা বিজেপি হেলায় করে দেখিয়েছে।
একই কাজ গেরুয়া শিবির বিহার ও উত্তরপ্রদেশেও করেছে। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম বা মিমকে দিয়ে বিরোদীদের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে ফায়দা লুটে নিয়েছে বিজেপি। কোথায় কাকে কাজে লাগিয়ে জাতিগত ভোট বিভাদন করে ফায়দা লোটা যায়, সেই অঙ্ক কষাটাও জরুরি রাজনীতিতে। রাজনীতিতে চাণক্যকে কৌটিল্যের পরিচয়ও দিতে হয়েছিল। কে কত রাজনৈতিক অঙ্ক ভালো কষতে পারে, তার উপর নির্ভর করে ফলাফল। কোনও সন্দেহ নেই সেই কাজে বিজেপি শতযোজন এগিয়ে কংগ্রেসের থেকে। আর তার ফল তাই হাতেনাতে পেয়ে যাচ্ছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications