গুজরাত নির্বাচনের আগেই বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট, একাধিক নেতার নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার হুমকি
গুজরাত নির্বাচনের আগেই বিজেপি অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট
গুজরাত নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের মধ্যে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব ততই প্রকট হতে শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি টিকিট না দেওয়ার কারণে কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। স্বতন্ত্রভাবে গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার হুমকি দিয়েছেন। গুজরাতের কমপক্ষে চার বিজেপি নেতা বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ায় স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

গুজরাতে বিদ্রোহী বিজেপি নেতাদের একাংশ জানিয়েছেন, স্বতন্ত্রভাবে তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চান। তবে তার আগে নিজের অনুগামীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। অন্যদিকে, প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক এবং দলের সুপরিচিত আদিবাসী মুখ হর্ষদ ভাসাভা ইতিমধ্যে নন্দোদ আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসাবে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ভাসভা বর্তমানে গুজরাত বিজেপির তফসিলি উপজাতি মোর্চার সভাপতি। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৭ এবং ২০০৭ থেকে ২০০১২ পর্যন্ত রাজপিপলা আসনের বিজেপি বিধায়ক ছিলেন।
বর্তমানে গুজরাতের নর্মদা জেলার নন্দোদ আসনটি কংগ্রেসের অধীনে রয়েছে। ভাসবা প্রথম থেকে এই আসন থেকে ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেনি। বিজেপির তরফ থেকে চিকিৎসক দর্শনা দেশমুখ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এরপরেই ভাসবা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বিজেপির সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি শুক্রবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নন্দোদ আসন থেকে মনোনয়ন জমা দেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর ভাসবা সাংবাদিকদের বলেন, নান্দোদে একটি বিজেপির সমান্তরাল আর একটা বিজেপি রয়েছে। যাঁরা বিজেপি করছেন এতদিন ধরে। দলের জন্য দিনরাত খেটে কাজ করছেন, তাঁদের এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আমি সব প্রকাশ্যে আনব। ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রে আমি অনেক কাজ করেছি। কিন্তু আমার বদলে অন্যজনকে প্রার্থী করা হল। সেই কারণেই স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি।
ভাঘোদিয়া থেকে ছয় বারের বিধায়ক মধু শ্রীবাস্তবকে বিজেপি ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেনি। তিনি বলেছেন, যদি সমর্থকরা তাঁর পাশে থাকেন, সেক্ষেত্র তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করবেন। ভাদোদরা জেলার পাদ্রা আসনের আরেক প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক দীনেশ প্যাটেল ওরফে দিনু মামাও বিজেপি থেকে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাননি। তিনিও স্বতন্ত্রভাবে লড়াইয়ের হুমকি দিয়েছেন। ওই আসনে চৈতন্যসিংহ জালাকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। কারজানে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সতীশ প্যাটেল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এই আসনে বিজেপি অক্ষয় প্যাটেলকে প্রার্থী করেছে। অক্ষয় প্যাটেল ২০১৭ সালে কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করেন। এই বিধানসভা আসন থেকে জয় পান। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ভার্গব ভাট ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভি ভদোদরা গিয়েছেন। তাঁরা বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা ভদোদরার প্রতিটি আসনে জয়ের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেন।












Click it and Unblock the Notifications