সিএএ–এনআরসি নিয়ে মানুষের বিভ্রান্তি দূর করতে নামছেন বিজেপির ৫২ জন শীর্ষ নেতা
ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজুড়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং যার জেরে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিগড়ে গিয়েছে, তা শুধরাতে এবার বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মন্ত্রীরা ময়দানে নামছেন।

ড্যামেজ কন্ট্রোলে বিজেপি
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে এই নেতাদের মোতায়েন করা হবে এবং যাঁদের কাজই হবে এনআরসি ও সিএএ নিয়ে বিরোধীরা যে প্রচার চালাচ্ছে তার মোক্ষম জবাব দেওয়া। মানুষকে বিপথগামী হওয়ার থেকে বাঁচানো।
কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ, প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতরের মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর এবং ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু সহ বেশ কিছু বিজেপি নেতাকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে অনুরাগ সিং ঠাকুর ও রিজিজুর ওপর দায়িত্ব পড়েছে যে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গিয়ে এই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিশদভাবে ব্যাখা করা। এই বিষয় নিয়ে গোটা দেশেই নেতারা সাংবাদিক সম্মেলনও করবেন। এই অভিযানের মধ্যে লাদাখের তরুণ সাংসদ জাময়াং তেনজিং নাময়ালও রয়েছেন। দলের কার্যনির্বাহি সভাপতি জেপি নাড্ডার নেতৃত্বে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে সিএএ নিয়ে যে ভুল–ভ্রান্তি রয়েছে, তা কাটানোর জন্যই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বদের ব্যবহার করছে। বিজেপির সদর দপ্তরের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিএল সন্তোষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।
মোট কতজন বিজেপি নেতা রয়েছেন
সূত্রের খবর, মন্ত্রী, কমিশন চেযারপার্সন এবং সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ ৫২ জন বিজেপি নেতা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। সিএএ–এনআরসি নিয়ে প্রতিলিপিও বিলি করা হয় বিজেপি নেতাদের মধ্যে। প্রত্যেক বিজেপি মোর্চা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। সিএএ নিয়ে যে অশান্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে বিজেপি এখন লড়াইয়ের মেজাজে রয়েছে। প্রসঙ্গত, রামলীলা ময়দান থেকেও নরেন্দ্র মোদী সিএএ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তা স্পষ্টকরণ করার চেষ্টা করেন। এই ইস্যুকে সামনে রেখে দেশের মানুষ আগুন জ্বালাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে পুড়ছে সরকারি সম্পত্তি, ভাঙচুর চলছে বাসে–ট্রেনে। মুসলিমদের কাছে এই দু’টি বিষয় খুব আবেগপ্রবণ। সূত্রের খবর, এই কারণের জন্যই সরকার এবং বিজেপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আবেগপ্রবণ এই সিএএ–এনআরসি নিয়ে কোনও শ্রুতিকথা চাউর হলে, তা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে।
বিজেপির কৌশল
বিজেপির পক্ষ থেকে সহজে বোঝা যায় এমন কিছু ভিডিও, কার্টুন ছবি ও গ্রাফিক্স তৈরি করা হয়েছে। যা সিএএ ও এনআরসি সংক্রান্ত। জনগণের মধ্যে সিএএ ও এনআরসি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিজেপি নেতারা যত সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় পৌঁছাবেন। 'সিএএ–এর সঙ্গে পরিচয়’ শিরোনাম দিয়ে পুস্তিকাও বিলি করা হবে। এই পুস্তিকাতে দু’টি বিষয় নিয়েই মোদী ও অমিত শাহের বক্তব্য রয়েছে। পুস্তিকাটিতে সিএএ এবং এনআরসি ইস্যুতে কংগ্রেস নেতাদের অবস্থান সম্পর্কেও বিশদ রয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যার অবনতির তালিকা সহ সঠিক পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications