বিজেপি জোট শরিককে ভাঙতেও কসুর করছে না, এনপিপি বিধায়কের যোগদানে প্রশ্ন
বিজেপি জোট শরিককে ভাঙতেও কসুর করছে না, এনপিপি বিধায়কের যোগদানে প্রশ্ন
তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে যখন মেঘালয়ে এগনোর চেষ্টা করছে। বিজেপি তখন নিজেদের শরিক জোটসঙ্গী ন্যাশলান পিপলস পার্টি বা এনপিপিকে বেঙে বড় হওয়ার চেষ্টা করছে। লক্ষ্য একটাই ক্ষমতা। ক্ষমতা দখলের জন্য জোটসঙ্গীকে ভাঙতেও কসুর করছে না বিজেপি।
বুধবারই দিল্লিতে মেঘালয়ের চার বিধায়ককে বিজেপিতে যোগদান করিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তার মধ্যে রয়েছেন শাসকদল এনপিপি-র দুই বিধায়ক। আর রয়েছেন তৃণমূলের ১ বিধায়ক এবং ১ নির্দল বিধায়ক। তৃণমূল বা নির্দল বিধায়কের যোগদান নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, কিন্তু নিজেরই শরিক দলকে ভেঙে শক্তি বাড়ানো নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

শুধু মেঘালয়েই নয়, বিজেপি একইভাবে জোটসঙ্গীকে ভেঙেছে মণিপুর ও ত্রিপুরাতেও। বিহারেও জোটসঙ্গীকে অন্ধকারে রেখে বিজেপি ক্ষমতা দখলের খেলা চালিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। শেষে জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসে নীতীশ কুমার মহাজোটের সরকার গড়েছেন।
মেঘালয়ে তাদের বিধায়ককে ভাঙিয়ে নেওয়ায় জোটসঙ্গী বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ এনপিপি। তাঁদের নেতৃত্বে সরকারে রয়েছে বিজেপি, তারপরেও কেন তাঁদের বিধায়ককে ভাঙানোর খেলা চালিয়ে যাচ্ছে? বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিজেপির এই ভূমিকায়। বিভি্ন্ন দলকে ভাঙতে ভাঙতে তারা, নিজেদের শরিককেও ভাঙছে।
মেঘালয়ে ২০১৮-র নির্বাচনে বৃহত্তম দল হয়েছিল কংগ্রেস। ৬০ আসন বিশিষ্ট মেঘালয় বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হয়েছিল। কংগ্রেস ২১টি আসনে জিতেও ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। এনপিপি ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। ২০টি আসনে জিতেছিল তারা। আর বিজেপি ২টি আসন দখল করে। এরপর বিরোধীদের এককাট্টা করে সরকার গড়োর উদ্যোগ নেয় বিজেপিই। এনপিপি-বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হয় মেঘালয়।
হালে তৃণমূলও কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ককে ভাঙিয়ে নেয়। নির্বাচনে না লড়েও প্রধান বিরোধী দল হয়ে যায় তৃণমূল। তৃণমূল ও বিজেপি শুধু ভিন্ন দলকে ভাঙিয়েই নিজেদের ভিত শক্ত করার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্য দলকে ভেঙেই তারা বাহুবলী। এই অবস্থায় তৃণমূলের লড়াই যে খুব একটা সহজ হবে না, তা বলাই যায়। কেননা বিজেপিও এখানে শক্তি বাড়িয়ে বিধানসভা নির্বাচমে এককভাবে লড়তে চাইছে। মণিপুরেও এবার বিজেপি জোটসঙ্গীকে ছেড়ে এককভাবে লড়ে।
তৃণমূল মেঘালয়ের লড়াইকে সহজ ভেবেছিল। বিজেপি কিন্তু মমতার সফরের একদিন পরেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। মেঘালয়ে মমতা-অভিষেকের প্রচ্ছন্ন বার্তার পর বিজেপি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জবাব দিল তৃণমূলকে। তাঁরাও বহরে বড় হয়ে দেখা দিল মেঘালয় রাজ্যে।












Click it and Unblock the Notifications