গুজরাতে নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেসের নজর ২৭টি কেন্দ্রে, কেন জানেন
চলতি বছর গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বিজেপির নজর ২৭টি কেন্দ্রে,
গুজরাতের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক নেতারা।এতদিন গুজরাত নির্বাচনে মূলত কংগ্রেস ও বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। বর্তমানে আপ গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যের মধ্যবিত্তদের ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। গুজরাতে ১৮২ টি আসনে নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক নেতারা রাজ্যের মূলত ২৭টি আসনের ওপর জোর দিচ্ছেন। ২৭টি আসন তপসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

গুজরাত নির্বাচনে তফসিলি উপজাতিদের ভূমিকা
গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে তফসিলি উপজাতি বা আদিবাসীদের যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। কারণ ২৭টি আসনে গুজরাতের তফসিলি উপজাতি বা আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। ১৩টি আসন উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুজরাতে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় রাজনৈতিক দল আদিবাসীদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। গুজরাতের আদিবাসীদের মধ্যে কংগ্রেস বেশ জনপ্রিয়। তবে সম্প্রতি গুজরাতের আদিবাসীদের জনপ্রিং একাধিক নেতা কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিধানসভায় কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে তার এক্স ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে এই ২৭টি আসন।

আদিবাসী মহলে জনপ্রিয় কংগ্রেস
২০১৭ সালে গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে ৯৯টি আসন বিজেপি দখল করেছিল। আর ৭৭টি আসন কংগ্রেসের দখলে ছিল। একথা বলা যেতেই পারে গুজরাতে ২০১৭ সালের বিধাসভা নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। কিন্তু দেখা গিয়েছে, আদিবাসী সংরক্ষিত আসনগুলোতে বিজেপি সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ২৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র ৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সেখানে কংগ্রেস ১৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল। আদিবাসীদের মধ্যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল দুটি আসনে জয়ী হয়।

বিজেপির জনপ্রিয়তায় বাধা কেন্দ্রীয় প্রকল্প
বিজেপির চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ২৭টি আসন। যদিও গত পাঁচ বছরে অশ্বিন কোতওয়াল, জিতু চৌধুরী এবং মঙ্গল গাভিত, এই তিন জন আদিবাসী বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক অনিল জোশিয়ারা এবং পঞ্চমহলের স্বতন্ত্র বিধায়ক মারা যান গত পাঁচ বছরে। অন্যদিকে আবার, কেন্দ্রের একটি প্রকল্প নিয়ে আদিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মূলত দক্ষিণ গুজরাতের তাপি ও নর্মদা নদীর তীরে আদিবাসী অঞ্চলের বাস। এখানেই ২৭টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সম্প্রতি কংগ্রেস বিধায়কদের নেতৃত্বে আদিবাসীরা তাপি ও নর্মদা সংযোগ প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। একপ্রকার বাধ্য হয়েই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল আদিবাসীদের এই বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন।

গুজরাতের বাকি অংশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব
গুজরাতের দক্ষিণের পাশাপাশি রাজ্যের উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে একটা বড় অংশে আদিবাসীরা বাস করেন। সেই আদিবাসীদের ভোট নিজেদের দিকে টানতে ইতিমধ্যে কংগ্রেস একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। উভয়দলই আদিবাসীদের বোঝাতে চাইছেন, তারা কাছের লোক। ১ ও ৫ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বোঝা যাবে আদিবাসীরা কাদের নিজেদের কাছের লোক বলে মনে করেন।












Click it and Unblock the Notifications