ভোটের আগেই ৩৪ শতাংশ আসনে জয় হাসিল বিজেপির, ত্রিপুরায় ৭ পুরসভা দখল
ভোটের আগেই ৩৪ শতাংশ আসনে জয় হাসিল বিজেপির, ত্রিপুরায় ৭ পুরসভা দখল
তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি ত্রিপুরায় প্রাক-নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ করছলি বিজেপির বিরুদ্ধে। উঠেছিল ভয় দেখিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের অভিযোগও। এবার সেই অভিযোগের মধ্যেই ত্রিপুরার পুরভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হাসিল করে নিল বিজেপি। ত্রিপুরার শাসকদল ভোটের আগেই তিন ভাগের এক ভাগ আসন দখল করে নিয়েছে।

পুরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
বিজেপি বাংলায় যে অভিযোগ করে এসেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, ত্রিপুরায় সেই একই অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। শুধু এবার পুরভোটেই নয়, আগে পঞ্চায়েত ভোটেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিংহভাগ আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। বেশিরভাগ পঞ্চায়েত তারা দখল করেছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে। এবার পুরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।

৩৩৪টি মধ্যে কতগুলি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়
ত্রিপুরায় ক্ষমতাসীন বিজেপি আগরতলা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও ১৯টি পুরসভার মোট ৩৩৪টি আসনের মধ্যে ১১২টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিয়েছে। ২৫ নভেম্বর নির্বাচন আগরতলা-সহ ২০ পুরসভা ভোট। তার আগেই এক-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে পুরসভা দখলের পথে কয়েক কদম এগিয়ে রইল। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে তার চার ভাগের এক ভাগ আসনে জিতলেই কেল্লাফতে।

কোন কোন সাতটি পুরসভা ভোটের আগেই দখল
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই পুরসভা নির্বাচন পরিচালনা করছে। মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিজেপি পশ্চিম ত্রিপুরার জিরানিয়া, রানির বাজার, মোহনপুর, বিশালগড়, সন্তির বাজার, দক্ষিণ ত্রিপুরার উদয়পুর এবং উত্তর ত্রিপুরার কামালপুর-এই সাতটি পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গিয়েছে।

কতগুলি আসনে ভোট, কতজন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিজেপি, সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলের ৭৮৫ জন প্রার্থী ২২২টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখ্য, ২৫ নভেম্বর হবে ভোট। ত্রিপুরায় ২০টি পুরসভা নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ২৮ নভেম্বর। এখন দেখার ওই দুই-তৃতীয়াংশ আসে কতটা লড়াই দিতে পারে বিরোধীরা।

বিজেপির বিরুদ্ধে হিংসার রাজনীতিকে অভিযোগ
বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, শাসক দল বিজেপির নেতারা এবং তাঁদের সহযোগীরা হিংসার আশ্রয় নিয়ে, হুমকি দিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে তাদের অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি। অনেকে মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি, অনেকে জমা দেওয়ার পরেও প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ে বিজেপির যুক্তি
বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ত্রিপুরা বিজেপির সহ-সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং ত্রিপুরায় হিংসার সংস্কৃতি নিয়ে এসেছে। বিজেপি হিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না। এখানে বিরোধীরা প্রার্থী খুঁজে পায়নি। তাদের সংগঠন ভেঙে পড়েছে, তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications