বিধায়কের গাড়ি ঢুকল ভিড়ের মধ্যে, ২২ জনকে আহত করে খেলেন ধবলধোলাই
বিধায়কের গাড়ি ঢুকল ভিড়ের মধ্যে, ২২ জনকে আহত করে খেলেন ধবলধোলাই
বিধায়কের গাড়ি সটান গিয়ে ঢুকে পড়ল ভিড়ের মধ্যে। একে একে ২২ জনকে ছিটকে দিয়ে গাড়ি থামল। তারপর রেহাই পেলেন না বিধায়ক। গাড়ি থেকে নামিয়ে গণধোলাই দেওয়া হল বিধায়ককে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে ওড়িশার খুরদা জেলায়। এই ঘটনায় সাত পুলিশ-সহ ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ।

চিলিকার বিজেডি বিধায়ক প্রশান্ত জগদেবের গাড়ি সটান ঢুকে পড়েছিল জনতার ভিড়ে। সেই ভিড়ের মধ্যে ছিলেন পুলিশ-সহ বহু জনতা। ব্লক চেয়ারপার্সন নির্বাচনের জন্য বিজেপি সমর্থক-সহ বিপুল জনতা বানাপুর ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসের বা বিডিও অফিসের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানেই ঢুকে পড়ে বিধায়কের গাড়ি। এরপর উত্তেজিত জনতার হাতে প্রহৃত হন বিধায়ক জগদেবও। আহত ২২ জনের সঙ্গে তিনিও চিকিৎসাধীন হাসপাতালে।
তবে এই ঘটনায় কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। কীভাবে গাড়িটি ঢুকে পড়ল জনতার ভিড়ে, তার তদন্ত চলছে। খুরদা এসপি আলেখচন্দ্র পাধি জানিয়েছেন, স্পষ্ট নয় কীভাবে গাড়িটে ঢুকে পড়ল ভিড়ের মধ্যে। গাড়িটিতে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ ঘটেছিল, তার ফলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ২০২১ সালের অক্টোবরে ক্ষমতাসীন বিজু জনতা দল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল প্রশান্ত জগদেবকে। জগদেবকে খুরদা জেলা পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারপার্সনের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বিধায়ক পদে ছিলেন। আবারও তাঁর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। তিনি গাড়ি নিয়ে ঢুকে গেলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে।
এটা পূর্ব পরিকল্পিত কোনও ঘটনা নাকি নিছক দুর্ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধায়ক প্রশান্ত জগদেবের গাড়ি এভাবে সমর্থকদের ভিড়ে ঢুকে যাওয়ার পর বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পৃথ্বীরাজ হরিশচন্দ্র অবিলম্বে বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এর মধ্যে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিধায়কের ষড়যন্ত্রের ফলে তাদের দলের বহুকর্মী জখম হয়েছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন অনেকে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন পট্টনায়েক টুইট করে জানিয়েছেন, "চিলিকার বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত জগদেব যে ঘটনা ঘাটলেন, তা লখিমপুর খেরির মতোই একটি ঘটনা। ওড়িশার সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজেডি এমনই আচরণ করে আসছে। এই ধরনের জঘন্য ও অমানবিক কাজের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। ভাষা হারিয়ে ফেলেছি আমরা। এই ঘটনায় বিধায়কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।












Click it and Unblock the Notifications