গোটা শরীর-জামা ভিজে যায় রক্তে, আর সেই রাতেই নাকি দৈত্যকে মারেন শিব-পার্বতী!

হয় মেরে ফেলব, নাহলে নিজেরাই মরে যাব। এমন চিন্তাভাবনা নিয়ে এক উৎসবে সামিল হন হাজার হাজার মানুষ। অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলায় দেবারাগাট্টু মন্দিরে দশেরার রাতে এমন অদ্ভুত উৎসব পালিত হয় প্রত্যেক বছর। সবাই এখানে লাঠি হাতে হাজি

হয় মেরে ফেলব, নাহলে নিজেরাই মরে যাব। এমন চিন্তাভাবনা নিয়ে এক উৎসবে সামিল হন হাজার হাজার মানুষ। অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলায় দেবারাগাট্টু মন্দিরে দশেরার রাতে এমন অদ্ভুত উৎসব পালিত হয় প্রত্যেক বছর। সবাই এখানে লাঠি হাতে হাজির হন।

তারপর একের অপরকে বেধড়ক মারতে থাকে। রক্তারক্তি অবস্থা হয় মন্দিরের সামনে। চিকিৎসকও উপস্থিত থাকে সেখানে। তবে সে সবের কোনও প্রয়োজন মনে করেন না উপস্থিত মানুষজন।

অন্ধ্রপ্রদেশের দেবারাগাট্টু মন্দিরের এই উৎসবের নাম 'বানু ফেস্টিভ্যাল।'

 বহু মানুষ এসে এই উৎসবে যোগ দেন

বহু মানুষ এসে এই উৎসবে যোগ দেন

মন্দিরটি অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ভিন রাজ্য থেকেও বহু মানুষ এসে এই উৎসবের যগ দেন। সাধারণত মধ্যরাতে এই উৎসব হয়। শিব ও পার্বতীর মূর্তি পূজিত হয় এই উৎসবে।

শিব এখানে মালেশ্বরা স্বামী ও পার্বতী মালাম্মা নামে পরিচিত। তাঁদের মূর্তি নিয়ে আসা হয় নেরানেকিতে পাহাড়ের উপরে থাকা মন্দিরে। মাঝরাতেই মূর্তি আনা হয় মন্দিরে। আর উৎসব চলে ভোর পর্যন্ত। সাধারণত আশেপাশের অঞ্চলের কৃষকরাই এই উৎসবের যোগ দেন।

এই রাতে দৈত্যকে মারে শিব-পার্বতী

এই রাতে দৈত্যকে মারে শিব-পার্বতী

একে অপরকে লাঠি মারতে থাকে তারা। তাদের গায়ের জামা ভিজে যায় রক্তে। মনে করা হয় এই রাতে দৈত্যকে মারে শিব-পার্বতী। তাই এই উৎসব। আর রাত শেষে ভোরের দিকে শুরু হয় বিজয় উৎসব।

অর্থাৎ দেবতার হাতে দৈত্যের মৃত্যুর জয়ের উল্লাস। ভোরের মধ্যে শেষ হয় উৎসব। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকে চিকিৎসক। তবে মাথা ফেটে যাওয়ার জন্য ওষুধ লাগাতে পছন্দ করেন না অনেকেই। যাঁরা আহত হন তাঁরা মাথায় কাঁচা হলুদ লাগিয়ে যে যার নিজের কাজে চলে যায়।

এটা ডান্ডিয়ার মতোই একটি উৎসব

এটা ডান্ডিয়ার মতোই একটি উৎসব

মন্দির কর্তৃপক্ষের অবশ্য বক্তব্য এই উৎসবের কোনও হিংসাত্ম ঘটনা ঘটে না। তাদের দাবি, এটা ডান্ডিয়ার মতোই একটি উৎসব। শুধু এখানে একটি বড় আকারের লাঠি ব্যবহার করা হয়। মন্দিরের এক পুরোহিত জানান, ভক্তরা লাঠি ঘোরাতে থাকে সজোরে, তখন কারও কারও আঘাত লেগে যেতে পারে।স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অন্তত ১০০ বছরের রেকর্ড রয়েছে এই উৎসব পালনের। তারও বেশি সময় ধরে এই উৎসব চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উৎসবের রাতে মানুষকে আটকানো যায় না

উৎসবের রাতে মানুষকে আটকানো যায় না

তবে কখনও কারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়নি। পুলিশের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-তে ১১৩ জন আহত হয়েছিলেন, ২০১৩-তে ১৪ জন আহত হন। ২০০৬-এ একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

তবে পুলিশ বলে যে প্রতিশোধ নিতেই কেউ খুন করেছিল। পুলিশ এই উৎসবের জন্য অনেক সতর্কতামূলক ক্যাম্প করেছে। তবে উৎসবের রাতে মানুষকে আটকানো যায় না। এই উৎসব নিয়ে এলাকার মানুষের আবেগ আছে। হাজার খানেক পুলিশ থাকে এই উৎসবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+