বিল গেটস অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনা
অন্ধ্রপ্রদেশে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের রূপরেখা পর্যালোচনায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিল গেটসের সফর ঘিরে তৈরি হল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। গেটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গেটস রাজ্যের সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ ও মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফাউন্ডেশনের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
রাজ্য সচিবালয়ের ফার্স্ট ব্লকে পৌঁছতেই গেটসকে জানানো হয় উষ্ণ স্বাগত। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। প্রশাসনিক সংস্কার, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই তিনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিস্তারিত আলোচনা।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রিয়েল টাইম গভর্ন্যান্স (আরটিজিএস) সেন্টার পরিদর্শন। মুখ্যমন্ত্রী নাইডু গেটসকে ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সরকারি কাজের প্রতিটি ধাপ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। রিয়েল টাইম ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়।
প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার গতি ও জবাবদিহিতা বাড়াতে পারে তা জানতে গেটস বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন গেটস ও তাঁর প্রতিনিধি দল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্রে চলমান ও সম্ভাব্য যৌথ প্রকল্প সম্প্রসারণ।
নায়ডু 'স্বর্ণআন্ধ্র ভিশন ২০৪৭' পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য, জনস্বাস্থ্য সংস্কার, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়। বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় মেডটেক উদ্যোগ, উন্নত ডায়াগনস্টিক পরিষেবা, প্রযুক্তিনির্ভর নির্ভুল চাষাবাদ ও 'সঞ্জীবনী' প্রকল্প যা গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
মাঠে প্রযুক্তির প্রয়োগ, আমরাবতীর গ্রামে প্রদর্শনী
সচিবালয়ের বৈঠক শেষে নায়ডুকে সঙ্গে নিয়ে গেটস যান আন্দাবল্লী গ্রামে, অমরাবতীর কাছে এক কৃষিক্ষেত্রে। সেখানে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরিচালিত উন্নত কৃষিপদ্ধতির সরাসরি প্রদর্শন দেখানো হয়।
প্রযুক্তির সুচারু ব্যবহারে কীভাবে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও টেকসই কৃষি গড়ে তোলা সম্ভব, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয় প্রতিনিধি দলের সামনে।
রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে গেটস জানান, এই উদ্যোগগুলিকে আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে আগ্রহী তাঁর সংস্থা। প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন ও উন্নয়নের এই মডেল ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্য ও দেশের কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।












Click it and Unblock the Notifications