বিলকিস বানো মামলায় আসামীদের মুক্তি! বিশেষ কারণ নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
বিলকিস বানোর ধর্ষণকারীদের মুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এব্যাপারে তারা তিন দফা পরীক্ষা চালাবে। এর মধ্যে রয়েছে মুম্বই ট্রায়াল কোর্টের মতামত, অপরাধের জঘন্যতা এবং যখন বিভিন্ন মামলায় দশকের পর দশক ধরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মুক্তির বিরোধিতা করা হচ্ছে, সেই সময় গণধর্ষণ এবং হত্যায় জড়িত ১১ জনকে কীভাবে গুজরাত সরকার ক্ষমা করে দিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।

মুক্তি দেওয়ার ভিত্তি কী?
বিচারপতি কেএম জোসেফ এবং বিচারপতি নাগারথনার ডিভিশন বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, তাঁরা দেখেছেন বহু যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারের মধ্যে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিভিন্ন রাজ্য সরকারগুলিকে ক্ষমার আবেদন বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে মুক্তির ভিত্তি কী, প্রশ্ন করেছে বেঞ্চ।

গুজরাত সরকারের ক্ষমা
২০২২-এর ১০ অগাস্ট গুজরাত সরকার গোধরা পরবর্তী সাম্প্রদায়িক মামলায় জীবিতদের দামিন মঞ্জুর করে। এইসব আগামীদের বিচার একটা সময় গুজরাত থেকে মুম্বইতে সরানো হয়েছিল। সেইসব আসামীরা ১৫ বছরের বেশি সময় কারাবাস করেছিল। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এক্ষেত্রে কারাগারে ভাল আচরণের কথা বলা হয়েছে।
তবে এই মুক্তির আগে মুম্বইয়ের ট্রায়াল কোর্টের বিচার তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আসামীদের মুক্তির বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে বলেছিল তারা জঘন্য অপরাধ করেছিল।
বিলকিস বানোকে ধর্ষণ এবং তাঁর পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যার দায়ে ২০০৮ সালে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আৎ ২০২২-এর ১৫ অগাস্ট তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়।

নতুন করে নোটিশ জারি
বিলকিস বানোর গণধর্ষণকারীদের মুক্তির বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য সুভাষিণী আলি। বিলকিস বানোও এব্যাপারে মামলা দায়ের করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং আবেদনকারীদের উদ্দেশে নতুন করে নোটিশ জারি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়েছে, বিলকিস বানোর আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ১৮ এপ্রিল এর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসামীর আইনজীবীর ব্যাখ্যা
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এব্যাপারে এক আসামীর আইনজীবী এব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, গুজরাত সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩২ ধারার অধীনে অপরাধীদের ক্ষমার আবেদন বিবেচনা করার জন্য উপযুক্ত। সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ১৩ মে এই ধারাকে বহাল রেখেছিল। পাশাপাশি গুজরাত সরকারকে ১৯৯২ সালের ক্ষমার নীতি অনুসারে আবেদন বিবেচনা করতে বলেছিল। এছাড়া ওই আইনজীবী আরও বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে বিলকিস বানোর ১৩ মে রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জিও খারিজ হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications