রসালো ‘লকডাউন’–এ মজবে এবার বিহারবাসী, নতুন নামে আম ফলিয়ে তাক লাগালেন ম্যাঙ্গো ম্যান
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গোটা দেশই যখন লকডাউনের আওতায়, ঠিক তখনই নতুন এক সৃষ্টি করে দেখালেন বিহারের অশোক কুমার চৌধুরি, যিনি রাজ্যে 'ম্যাঙ্গো ম্যান’ বলে পরিচিত। তিনি এই আমের মরশুমে নতুন এক হাইব্রিড প্রজাতির জর্দালু আম ফলিয়েছেন এবং তার নাম রেখেছেন 'লকডাউন’।

ভাগলপুর জেলার মহেশি–তিলকাপুরের বাসিন্দা ৫৮ বছরের চৌধুরি আইন নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কৃষকের পেশা গ্রহণ করেন। প্রত্যেক বছর তিনি ভাগলপুরের বিখ্যাত 'জর্দালু’ আমের বাক্স পাঠান রাষ্ট্রপতি, উপ–রাষ্ট্রপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি এভাবেই মানুষের কাছে জনপ্রিয়। এর আগে তাঁর ফলানো দুই প্রজাতির আমের তিনি নামকরণ করেন 'মোদী–১’ ও 'মোদী–২’।
১৯৯২ সাল থেকে আমের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য শতাধিক পুরষ্কার প্রাপ্ত চৌধুরী বলেন, 'লকডাউনের সময় এই নতুন হাইব্রিড প্রজাতির জর্দালু আমের জন্ম হয়েছে। তাই আমি এই আমের নাম রেখেছি লকডাউন।’ ১৯৯২ সাল থেকে তিনি এখনও পর্যন্ত ৮০ রকমের আম ফলিয়েছেন এবং তৈরি করেছেন 'মধুবন খামারবাড়ি’ আম বাগান, যেখানে তিনি বিভিন্ন ধরনের আম গাছ বড় করে তোলেন। এর মধ্যে কিছি কিছু আমের চারা তিনি আমেরিকার ফ্লোরিডা ও থাইল্যান্ড থেকেও নিয়ে এসেছেন।
অশোক চৌধুরি কলম পদ্ধতি ব্যবহার করে ভিন্ন প্রজাতির আম ফলিয়ে থাকেন। লকডাউন প্রজাতির আমের কলম তিনি কোভিড–১৯–এর প্রকোপ হওয়ার আগে বসিয়েছিলেন এবং লকডাউনের সময় তার পূর্ণ বিকাশ হয়। এক গাছ থেকে গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে ৭২ জাতের আমের বিকাশের জন্য চৌধুরী বহু প্রশংসা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, '২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন তখন আমি নতুন জর্দালু প্রজাতির আমের নতুন নাম রাখি মোদী–২, ২০১৪ সালে মালদা প্রজাতির আমের নাম রাখি মোদী–১।’
তবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নামে আম এখন চৌধুরির বাগানে ফলছে, যা আগামী দিনে সামনে আসবে। এখানে উল্লেখ্য আম চাষের ক্ষেত্রে চৌধুরির প্রবল প্রচেষ্টা যা ২০১৮ সালে ভাগলপুরের বিখ্যাত জর্দালু আমের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জিআই ট্যাগ এনেছে। তিনি কেন সরকারি স্কুলে শিক্ষকের চাকরি ছাড়লেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আম সব ফলের রাজা। আমি ফলটি বাঁচাতে কিছু করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পেরেছি এবং বিলুপ্তপ্রায় জাতগুলির সংরক্ষণের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি।’












Click it and Unblock the Notifications