অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়া মহিলাদের হাত-পা বেঁধে বন্ধ্যাত্বকরণের অস্ত্রোপচার, তদন্তের মুখে বিহারের স্বেচ্ছাসেবী সংস
অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়া মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণের অস্ত্রোপচারের অভিযোগ
বুধবার বিহারের স্বাস্থ্যদফতরের তরফে চরম অবহেলার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, অ্যানাস্থেসিয়াছাড়াই বন্ধ্যাত্বকরণ করা হয়েছিল একাধিক মহিলাকে। ঘটনাটি বিহারের খাগরিয়া জেলায় হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে বিহারের স্বাস্থ্য দফতর ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। জানানো হয়েছে, এই ঘটনার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

বিহারের খাগরিয়া জেলার আলাউলি এবং পার্বত্তা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে টিউবাল লাইগেশনের জন্য কোনও রকম অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়া অস্ত্রোপচার করা হয়। জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাকর্মীরা মহিলাদের অপারেশন থিয়েটারে বেডে শুইয়ে তাদের হাত ও পা শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়। মুখে তুলো দেওয়া হয়। কোনও রকম অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হয়। এরফলে মহিলারা অস্ত্রোপচারের সময় ও পরে তীব্র যন্ত্রণার মুখে পড়েন।
টিউবার লাইগেশন হল মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফ্যালোপাইন টিউবগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষেত্রে টিউবগুলো কেটে বাদ দেওয়া হয়। এরফলে শুক্রানুদের সঙ্গে ডিম্বানুর নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়। মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য এই প্রক্রিয়াটিকে স্থায়ী প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত করা হয়। এর ফলে মহিলাদের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যায়।
খাগড়িয়ার সিভিল সার্জন অমরনাথ ঝা স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ধরনের অমানবিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে এই ধরনের আমানবিক কাজটি হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে বিহারের স্বাস্থ্যদফতর তদন্ত শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে বিহারের স্বাস্থ্যদফতরের চুক্তি হয়। বিহার সরকারের পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের অধীনে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি মহিলাদের বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য অস্ত্রোপচার করে।
খাগড়িয়ার সিভিল সার্জন অমরনাথ ঝা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মহিলাদের কোনও রকম অ্যানাস্থেসিয়া ছাড়াই বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। বিহার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি রোগীদের অচেতন করার জন্য 'টিউবেকটমি' নামক একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় এই প্রক্রিয়াটি রোগীদের ওপর কাজ করেনি।
রাজ্যসরকার প্রতিটি টিউবেকটমি অস্ত্রোপচারের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে ২,১০০ টাকা দেয়। বিহারের স্বাস্থ্যদফতরের তরফে জানানো, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি শুধু অমানবিক কাজ করেছে তা নয়, এই ঘটনার জেরে রোগীদের জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারত। এটা এক ধরনের ফৌজদারি অপরাধ।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে বিহারের আরারিয়া জেলায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রায় ৫৩ জন মহিলাকে কোনও রকম অ্যানেসথেসিয়া ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের অধীনে বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। সেই সময় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন জনের জেল হয়।












Click it and Unblock the Notifications