সংক্রমণের ভয়ে এগিয়ে আসল না কেউ, করোনায় মৃত স্বামীর শেষকৃত্য করলেন স্ত্রী একা
করোনায় মৃত স্বামীর শেষকৃত্য করলেন স্ত্রী একা
দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের সংক্রমণ ক্রমাগত নির্মম চিত্র দেখিয়ে চলেছে দেশবাসীকে। একদিকে মৃত্যু মিছিল অন্যদিকে স্বজনহারার দুঃখ। তার ওপর আবার করোনা হয়েছে জানার পর অনেকেই পাশে দাঁড়ানোরও প্রয়োজন বোধ করছেন না। এরকমই এক ঘটনা দেখা গেল বিহারে। এক ৪০ বছরের মহিলা মীনা দেবী একাই তাঁর করোনায় মৃত স্বামীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন। কোভিডের জটিলতা নিয়ে ১৮ ঘণ্টা আগে মীনা দেবীর স্বামী মারা গেলেও কোনও আত্মীয়ই পাশে এসে দাঁড়াননি তাঁর। বাধ্য হয়ে দ্বারভাঙা জেলার শ্মশানে নিজেই তাঁর স্বামীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন।

খানপুর গ্রামের ৪৫ বছরের বাসিন্দা হরিকান্ত রাই কিছুদিন আগে গ্রামের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান 'অষ্টম’–এ যোগ দেওয়ার পরই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। আচমকা তীব্র জ্বরের ফলে রাইয়ের শরীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রোসারা হাসপাতালে যেখান থেকে তাঁকে বৃহস্পতিবার দ্বারভাঙা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় রাইয়ের।
রাই এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত জানার পর অধিকাংশ আত্মীয়ই সংক্রমণের ভয়ে দুরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে রাইয়ের স্ত্রী ক্রমাগত তাঁদের থেকে সাহায্য চাইতে থাকেন। শুক্রবার দুপুরে রাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দ্বারভাঙা হাসপাতালের মর্গে ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রাখা ছিল। রাইয়ের স্ত্রী তাঁর স্বামীর শেষকৃত্যের জন্য আত্মীয়দের থেকে সাহায্য চাইতে থাকেন। কিন্তু কেউই এগিয় আসতে চাননি। সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত কবীর সেবা সংস্থান মীনা দেবীর অবস্থার কথা শুনে তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।
মীনা দেবী নিজে এই পরিস্থিতিতে দৃঢ় থেকে পিপিই কিট পরে কোভিড বিধি মেনে স্বামীর দেহ মর্গ থেকে নেন। এই কাজে তাঁকে সহায়তা করে সমাজ সেবীরা। দ্বারভাঙার ভিগা শ্মশানে স্বামীর চিতায় আগুন দেওয়ার সময় মীনা দেবীকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখা যায়। কবীর সেবা সংস্থানের কর্মীরা তাঁকে শেষকৃত্যে সহায়তা করেন। স্বামীর শেষকৃত্য করার সময় মীনাদেবীর তিনজন আত্মীয় শ্মশানে পৌঁছান এবং দুরত্ব বজায় রেখে শেষকৃত্য দেখেন।












Click it and Unblock the Notifications