‘জাতপাত’ ও ‘বিকাশের’ মন্ত্রেই ভোটের ময়দানে বিহার! বিগত দশকের থেকে কতটা বদলাল রাজনৈতিক সমীকরণ?
‘জাতপাত’ ও ‘বিকাশের’ মন্ত্রেই ভোটের ময়দানে বিহার! বিগত দশকের থেকে কতটা বদলাল রাজনৈতিক সমীকরণ?
আগামী ২৮শে অক্টোবর, ৩রা নভেম্বর ও ৭ই নভেম্বর তিন দফায় ২৪৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে বিহারে। তার আগে শেষ মহূর্তের প্রস্তুতিতে জোর দিয়েছে শাসক-বিরোধী সমস্ত পক্ষই। এদিকে লোকসভা হোক বা বিধানসভা ভোটের মরসুমে জাতপাতের বরবারই অন্যান্য রাজ্যকে পিছনে ফেলেছে বিহার। অন্যদিকে ২০০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকেই লালু-নীতীশ-রামবিলাসের হাত ধরে অনেকটাই বদলেছে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ।

বিহার নির্বাচনে নজর গোটা দেশের
এদিকে পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যায় বিশ্বের অন্যতম প্রধান ক্ষমতাশালী অর্থনীতির দেশ ইংল্যান্ডের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মানুষের বাস বিহারে। একইসাথে প্রতিবছর লোকসভার মোট সাংসদের ৪০ই জনই থাকেন বিহার থেকেই। তাই অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বিহারের বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ও ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের উপর নজর থাকে গোটা দেশেরই। এমতাবস্থায় জাতপাত ও মোদীর বিকাশের মন্ত্রে ভর করেই আসন্ন ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে বিহার।

পরিযায়ী সঙ্কটের পাশাপাশি বেলাগাম বেকরত্বের প্রশ্ন বিহারবাসীর রায় কী নীতীশেই ?
এদিকে করোনা সঙ্কটের নাগপাশে জর্জরিত গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই গোটা দেশে প্রায় ১ লক্ষের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই মারণ ভাইরাস। সেই সঙ্গে তীব্র মন্দা দেশীয় অর্থনীতিতে। তার সাথে লকডাউনের ধাক্কায় রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে প্রায় প্রতিটা রাজ্য। তারইমাঝে পরিযায়ী সঙ্কটের পাশাপাশি করোনাকালীন বেকারত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিহার। এমতাবস্থায় করোনাকালীন পরিস্থিতি বিহার নির্বাচন নিয়ে তাই নতুন করে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

বন্যা মোকাবিলা সহ, করোনা সঙ্কট একাধিক ইস্যুতে নীতীশকে বিঁধেছে বিরোধীরা
এদিকে ভোটের আগেই করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি গোটা রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি ঠেকাতেও নীতীশ সরকারের তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যায় বিরোধীদের। অন্যদিকে গোটা দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের সিংহভাগেরই বাস বিহারে। কিন্তু লকডাউনের ধাক্কায় কর্মহীন লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চিন্তায় ঘুম উড়ছে জেডিইউ-বিজেপি সরকারের। এমতাবস্থায় পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা দূর করতে একাধিক সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা করা হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে নীতীশ বিরোধী ভোট প্রচারে নেমেছে আরজেডি-কংগ্রেসের-বামেদের বিরোধী জোট।

২০১৯ থেকেই একাধিক রাজ্য শক্তিক্ষয় বিজেপির
এদিকে ২০১৯ থেকেই ঝাড়খন্ড, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের ক্রমেই শক্তিক্ষয় হয়েছে বিজেপির । হরিয়ানাতে কোনোরকম সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি আরও একাধিক রাজ্যেই শরিকি বিবাদে জর্জরিত মোদীর দল। এমতাবস্থায় জেডিইউ-বিপির হাত ধরে যদি বিহারে সরকার গঠনে সমর্থ হয় এনডিএ জোট তবে তা যে আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে অক্সিজেন যোগাবে তা বলাই বাহুল্য।

কেমন ছিল ২০১৫ সালের বিহার বিধানসভার রসায়ন ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিহার নির্বাচনের হাত ধরেই সংগঠনের শক্তি পরীক্ষা করতে চাইছে ভারতীয় জনবতা পার্টি। এদিকে ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেই দেখা যায় ১৫৭ আসন থেকে বিজেপি লড়াই করলেও জয়লাভ করে মাত্র ৫৩টি আসনে। অন্যদিকে সেই সময় আসন সমঝোতা করতে দেখা যায় জেডিইউ-আরজেডিকে। ১০১টি আসনে লড়াই করে আরজেডি জেতে ৮০টি আসন। সেখানে ১০১টি আসনে লড়াই করে জেডিইউ জেতে ৭১টি আসন। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বিপির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করে নীতীশের দল। ফের পাল্লা ভারী হয় গেরুয়া শিবিরের। অনেকটাই পিছনে পড়ে যায় কংগ্রেস-আরজেডি। এমতাবস্থায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের বিহারবাসীর রায় কোনদিকে যায় তা দেখার জন্যই মুখিয়ে আছে দেশবাসী।












Click it and Unblock the Notifications