'সুন্দর মুখ, অন্য কোনও প্রতিভা নেই' প্রিয়ঙ্কা-কে নিয়ে বিহারের মন্ত্রীর মন্তব্য, তোলপাড় রাজনীতি
বাক্যবাণে এখন নয়া বিতর্ক খাড়া করেছেন বিহারে নীতিশ সরকারে থাকা জনস্বাস্থ্য ও কারিগারি মন্ত্রী বিনোদনারায়ণ ঝাঁ।
রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে নাম লেখানোটা সপ্তাহও পার হয়নি, তার আগেই অভূতপূর্ব বাক্যবাণের সামনে নিয়ত পড়তে হচ্ছে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভঢড়াকে। এই বাক্যবাণে এখন নয়া বিতর্ক খাড়া করেছেন বিহারে নীতিশ সরকারে থাকা জনস্বাস্থ্য ও কারিগারি মন্ত্রী বিনোদনারায়ণ ঝাঁ। শুক্রবার এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনোদনারায়ণ ঝাঁ জানিয়েছেন, 'সুন্দর মুখের উপরে ভিত্তি করে ভোট জেতা যায় না। সবচেয়ে বড় কথা উনি জমি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত রবার্ট ভঢড়ার স্ত্রী। তিনি অত্যন্ত সুন্দর। কিন্তু এর বাইরে তিনি কোনও রাজনৈতিক গুণ বা প্রতিভা ধারণ করেন না।'

ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক বিনোদনারায়ণ নীতিশ সরকারের মন্ত্রিসভায় একজন শক্তিশালী রাজনীতিক হিসাবেই পরিচিত। কিন্তু, তাঁর মুখ থেকে এমন উক্তি শুনে হতবাক রাজনৈতিক মহল। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কংগ্রেস থেকে সরকারিভাবে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর নাম একজন দলীয় কর্মী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভঢড়াকে বর্তমানে পূর্ব উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেসের ছন্নছাড়া অবস্থায় যখন সনিয়া গান্ধী দলের হাল ধরেছিলেন তখন তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন প্রিয়ঙ্কা। এমনকী, রাজীব উত্তরযুগে গান্ধী পরিবারের মুখ হিসাবে সবসময়েই সনিয়ার পাশে প্রিয়ঙ্কাকেই দেখা যেত। রাহুল গান্ধী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পরে প্রিয়ঙ্কা আস্তে আস্তে মা-এর ছায়াসঙ্গী হওয়াটা ত্যাগ করেন। কিন্তু, কংগ্রেসের যে কোনও কর্মীসূচি এবং নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে সবসময়ই দেখা যেত। আমেথিতে প্রচারেও রাহুল গান্ধীর হয়ে ভোট চেয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা। বলেছিলেন, 'আমি জানি আপনারা আমার ভাইকে ভোট দিতে জেতাবেন।' বলতে গেলে বরাবরই কংগ্রেসে আঙিনায় একটা গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসাবে থাকলেও প্রিয়ঙ্কা কখনও সরকারিভাবে দলে নাম লেখাননি। কিন্তু, এবার তিনি একজন পুরদস্তুর কংগ্রেস কর্মী হিসাবে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোট ময়দানে নেমে পড়তেই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন আক্রমণ।
বিজেপি-র দাবি প্রিয়ঙ্কা-কে দলে টেনে কংগ্রেস তাদের সুবিধা করে দিয়েছে। কারণ, একাধিক জমি কেলেঙ্কারি-তে অভিযুক্ত রবার্ট-এর সঙ্গে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটা এতে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে বলেই মনে করছে বিজেপি।
বিনোদনারায়ণের আপত্তিজনক মন্তব্যের আগেই অবশ্য বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীলকুমার মোদী তির্যক মন্তব্য করেছেন। সুশীলের দাবি, 'কারোর সঙ্গে কারোর চেহারার মিল থাকলেই সবকিছু হয় না। বিরাট কোহলি, সচিনের মতো অনেক ডুপ্লিকেট-কে খুঁজলে পাওয়া যাবে। কিন্তু, তাঁরা কেউই আসলদের মতো নয়। তাই ইন্দিরা গান্ধীর মতো দেখতে বলে প্রিয়ঙ্কা বিশাল কিছু করবেন তার কোনও মানে নেই।'
সুশীল মোদীর আরও দাবি, 'প্রিয়ঙ্কা-কে আসলে দলে নেওয়া হয়েছে মায়াবতী ও অখিলেশের জোটকে ভয় দেখাতে। যেভাবে কংগ্রেসকে ছাড়াই সপা ও বিএসপি জোট করেছে তা ভালোভাবে নেননি রাহুল।' লোকসভার অধ্যক্ষ সুমিত্রা মহাজনেরও দাবি, 'প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে দলে নেওয়াটা প্রমাণ করে দিয়েছে রাহুল একার হাতে রাজনীতি করতে পারছেন না এবং কংগ্রেসকেও টানতে পারছেন না।' প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর কংগ্রেস কর্মী হিসাবে ভোট ময়দানে নামা নিয়ে মন্তব্যের অভাব নেই। কিন্তু, কংগ্রেস এখন এসবকে পাত্তা দিতে রাজি নয়। বিহারের মন্ত্রী বিনোদনারায়ণ ঝাঁ-এর অশ্লীল মন্তব্যে কংগ্রেস প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানিয়েছে, 'প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে দেখে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। সেই কারণে নানা ধরনের মন্তব্য করে চলেছে।'












Click it and Unblock the Notifications