মদ-মুক্ত দেশ গড়ার ডাক! সমস্যায় পড়তে পারেন সুরাপ্রেমীরা
দেশজুড়ে মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির ডাক দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখার সময় এমনই দাবি করলেন তিনি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ভারতকে মদ-মুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তোলা উচিত। প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগেই বিহারে মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন নীতিশ কুমার।

মহাত্মা গান্ধীর ইচ্ছার কথা তুলে ধরেন নীতিশ কুমার
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'শুধুমাত্র বিহারের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতেই নয় বরং সারা দেশে মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। এটাই মহাত্মা গান্ধীর ইচ্ছা ছিল। তিনি বলতেন যে মদ মানুষের জীবন শেষ করে দেয়।'

'মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি'
এরপর তিনি আরও বলেন, 'এর আগে দেশে বিভিন্ন সময় মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বিহারেও বহু বছর আগে কর্পূরি ঠাকুর মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তবে সেবারও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।'

২০১৬ সালে মদ নিষিদ্ধ হয় বিহারে
নীতিশ কুমার বলেন, 'আমি ২০১১ সাল থেকে বিহারে মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি ভেবে এসেছি। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে আমি সেই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সক্ষম হই।' এরপর তিনি নিজের রাজ্যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি কার্যকর করার বিষয়টি বিষদে তুলে ধরেন।

গতবছর মিজোরামেও নিষিদ্ধ হয় মদ
এর আগে বিহারের পর দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে মিজোরামে ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ করা হয় মদ। আইন অনুযায়ী, মদ খাওয়া, মদ বিক্রি এবং মদ তৈরি- সবকিছুই আইনি ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। আইন ভাঙে কেনাবেচা করলে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সেইসঙ্গে মোটা আর্থিক জরিমানাও। আর কাজের দিনে মদ খেয়ে ধরা পড়লে বা গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা হলে ৬ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত কারাবাসের কথা বলা হয়েছে।

মদ নিষিদ্ধ করার পথে হেঁটেও পিছিয়ে আসে কেরল
এদিকে মদ নিষিদ্ধ করার পথে হেঁটেও পরে তা থেকে পিছিয়ে আসে কেরল। ২০১৪ সালে মদ নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেরাজ্যে। কংগ্রেস নেতৃ্ত্বাধীন ইউডিএফ জোট সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২০২৫ সালের মধ্যে কেরালায় মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হবে। তবে কেরলে বামেরা ক্ষমতায় আসতেই মদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পথ থেকে সরে আসে রাজ্য সরকার।












Click it and Unblock the Notifications