Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বিহার-উত্তরপ্রদেশ কেন পিছিয়ে! পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভাজন তৈরির আগে ভাবুন রাজনৈতিক নেতারা

পরিযায়ী শ্রমিকরা নানা সময়ে নানা আতঙ্কে ভোগেন। উত্তর-দক্ষিণের বিভাজন-আতঙ্কে পরিযায়ী শ্রমিকদের 'সসেমিরা' অবস্থা হয়। কিন্ত নিজের রাজ্যে কেন কারখানা নেই, সেই প্রশ্ন কি কেউ তোলেন? বিহারের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি করে উঠতে চায় এই অবধারিত প্রশ্নটাই।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে পরিকল্পিতভাবে প্রচার করা হয়েছে এইসব। দক্ষিণের রাজ্যের বিরুদ্ধে কুৎসা করেছিল উত্তরের একাধিক রা্জ্য।

বিহার-উত্তরপ্রদেশ কেন পিছিয়ে! এগিয়ে তামিলনাড়ু

বিহারের কয়েকজন বিজেপি নেতা এবং উত্তরপ্রদেশের বিজেপি মুখপাত্রের কাছ থেকে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু সবটাই বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল তা প্রমাণিত হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ভরসা রেখেছিলেন দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর উপর। নিন্দা করেছিলেন মিথ্য ও অপপ্রচারের।

তামিলনাড়ুতে বিহারি অভিবাসীদের হত্যা করা হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছিল। ভিন্ন কারণে জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, যার কোনোটিই তামিলদের কোনো যোগ ছিল না। তারপরও বিহারীদের প্রতি তামিলদের জাতিগত বিদ্বেষ রয়েছে বলে খুনের ঘটনা বলে প্রচার চালাচ্ছিল একটা শ্রেণি।

এই পোস্টগুলি তামিলনাড়ুর লক্ষাধিক পরিযা্য়ী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। যারা এই অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে। কিন্তু বিভ্রান্তি দ্রুত তাড়াতাড়ি ছড়ায়, সত্যি তত দ্রুত প্রচার পায় না। মানুষের ভয়ও তাই তাড়াতাড়ি দূর হয় না।

কতিপয় রাজনৈতিক দল যখন এই প্রচার চালাচ্ছে, তখন কেন লক্ষ লক্ষ লোক কাজের সন্ধানে হিন্দিবল ছেড়ে দক্ষিণ ভারতে চলে আসছেন, তা কি কখনএ ভেবে দেখেছেন। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের কথা ভেবে দেখুন। এই ছয়টি রাজ্যের জনসংখ্যা প্রায় ৫২ কোটি। যদি তারা নিজেরাই একটি দেশ হত তবে তারা তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ হত।

দক্ষিণ ভারতে দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিযায়ী শ্রমিকের আনাগোনা বেশি। দক্ষিণের রাজ্যগুলি সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগতভাবে আলাদা। সেই কারণে নানা সমস্যা হয়। কিন্তু তা বলে তাঁদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির।

এই পরিস্থিতিতে চিন্তাশীল নাগরিকদের মনে যে প্রশ্ন জাগা উচিত তা হল, উত্তর ভারতে এত কম কারখানা কেন এবং কেন এত কম চাকরি? উত্তরটি কঠিন। কিন্তু একটি সরল সত্য হল- কারখানা করতে পুঁজির প্রয়োজন হয়। সেইসঙ্গে সুশাসন, আইনের শাসন এবং সর্বোপরি ভালো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা দরকার।

বিহার এবং বাকি উত্তর ভারতের রাজনৈতিক দল তামিলনাড়ুতে অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের নিজেদের সরকারকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন তাদের রাজ্যগুলি দক্ষিণের রাজ্যগুলির থেকে পিছিয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ভুয়া খবর বা ঘৃণা না ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত কাজ করুক।

২০১৮ সালের পরিসংখ্যান মোতাবেক, বিহারে কারখানা মাত্র ৩৪৬১টি। আর শ্রমিকের সংখ্যা মাত্র ১ লক্ষ ৪ হাজার ৫৭ জন। সেখানে তামিলনাড়ুতে কারখানা ৩৭ হাজার ৭৮৭টি। আর শ্রমিকের সংখ্যা ২০ লক্ষ ৯৫ হাজার ২২৩ জন। ১ লক্ষ ৪ হাজার ৫৭ জন। বিহারের প্রায় ১০ গুণ বেশি কারখানা রয়েছে আর শ্রমিক কাজ করেন ২০ গুণ।

উত্তরপ্রদেশে কারখানার সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৩০টি আর শ্রমিক কাজ করেন ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ১২১ জন। সবথেকে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের থেকেও তামিলনাড়ুতে আড়াই গুণ শ্রমিক রয়েছে আর কারখানাও আড়াই গুণ বেশি। দক্ষিম ও পশ্চিম ভারতে এই পরিকাঠামো অনেক উন্নত।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+