Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

১ এপ্রিল থেকে আয়কর ব্যবস্থায় বড় রদবদল, কী বদলাবে, কোথায় মিলবে স্বস্তি? জানুন বিস্তারিত

নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই দেশের আয়কর ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত 'আয়কর বিধিমালা, ২০২৬ এর খসড়া অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে নতুন আইন। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ১৯৬১ সালের আয়কর আইনের জায়গায় এবার ২০২৫ সালের নতুন আইনের ভিত্তিতে চলবে কর ব্যবস্থা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই করদাতাদের মনে উঠছে নানা প্রশ্ন কর কি বাড়বে? নাকি মিলবে বাড়তি ছাড়?

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কর কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করা। ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর সংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধ অনেকটাই কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

এদিকে বাজেট ঘোষণার সময় করদাতাদের জন্য কিছু স্বস্তির কথাও শোনান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। যাঁদের হিসাব নিরীক্ষার (অডিট) প্রয়োজন নেই, তাঁরা এবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন। আইটিআর ৩ ও আইটিআর ৪ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩১ অগাস্ট।

তবে বড় স্বস্তির বিষয়, নতুন আইনে আয়কর স্ল্যাব বা হারের কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ আগের মতোই পুরনো ও নতুন এই দুই কর কাঠামোই চালু থাকছে।

বর্তমানে পুরনো কর ব্যবস্থায় বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হয় না। পাঁচ লক্ষ পর্যন্ত ৫ শতাংশ ও ১০ লক্ষ পর্যন্ত ২০ শতাংশ কর ধার্য রয়েছে। ১০ লক্ষের বেশি আয়ে করের হার ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে নতুন কর কাঠামোয় চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর নেই। আট লক্ষ টাকা আয় হলে ৫ শতাংশ এবং ১২ লক্ষে ১০ শতাংশ কর ধার্য হয়। ধাপে ধাপে ১৬, ২০ ও ২৪ লক্ষ টাকার আয়ে যথাক্রমে ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ কর দিতে হয়। ২৪ লক্ষের বেশি আয়ে করের হার ৩০ শতাংশ।

তবে নতুন ব্যবস্থায় একটি বড় সুবিধা হল ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কার্যত কোনও কর দিতে হচ্ছে না। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন যুক্ত হলে এই সীমা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২.৭৫ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকায় স্থির রাখা হয়েছে।

পুরনো কর ব্যবস্থায় যদিও কিছু আলাদা সুবিধা রয়েছে। পিপিএফ, ইএলএসএস, জীবনবিমা বা স্বাস্থ্য বিমায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাড়তি করমুক্ত আয়ের সীমাও রয়েছে। গৃহঋণের সুদেও কর ছাড়ের সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকছে।

তবে সবটাই যে স্বস্তির, তা নয়। কর বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আইন সহজ হলেও কিছু ক্ষেত্রে করদাতাদের উপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে জরিমানার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অজানা উৎসের নগদ টাকার ক্ষেত্রে করের হার কমলেও জরিমানা অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে এখন তা করের ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া 'ডিমড ইনকাম' বা ধারণাগত আয়ের ভিত্তিতে কর ধার্যের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত আয়ের তুলনায় সরকারি নথিতে বেশি অঙ্ক ধরা হয়, যার উপর কর দিতে হয় করদাতাদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম এখনও সংশোধন করা হয়নি, যা নিয়ে অসন্তোষ থেকেই যাচ্ছে।

নতুন আয়কর আইন কর কাঠামোকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই আনা হলেও, বাস্তবে এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক হবে, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মত দিতে নারাজ বিশেষজ্ঞ মহল। নতুন অর্থবর্ষে এই বদলের বাস্তব প্রয়োগই নির্ধারণ করবে করদাতাদের প্রকৃত লাভ ক্ষতি।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+