বাঙালিদের উপর নির্মম অত্যাচার ওড়িশায়! সব বাড়িতে আগুন, জারি কারফিউ, বন্ধ নেট, কেন এই পরিস্থিতি?
পুজোর আগে ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা এবং দিল্লিতে রাস্তায় নেমেছিল। বড়দিনের আগে ফের দেশে একই ধরনের উত্তেজনা দেখা দিল। এবার ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাঙালি উদ্বাস্তু আদিবাসীরা। ওড়িশার মালকানগিরিতে এক বাঙালি আদিবাসী মহিলার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার এবং ৫০টি বাঙালি আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলায় জারি হয়েছে কারফিউ।

মালকান ভিলেন (MV) ২৬ নামের ২৬ গ্রামে বহু বছর আগে উদ্বাস্তু বাঙালি আদিবাসীরা এসে বসবাস করে শুরু করেন। প্রশাসন বলছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে, বাস্তবে পরিস্থিতি যে বেশ জটিল। কিন্তু মাঝরাত পর্যন্ত পুরো জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি বেশ গুরুতর।
মালকান ভিলেন (MV) ২৬ গ্রামে বর্তমানে কোনও প্রায় পুরুষ নেই। নিরাপত্তার দাবি করে বাঙালি আদিবাসীরা কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। ওড়িশা পুলিশের আইজি কানোয়াল বিশাল সিং জেলা প্রশাসনকে নিয়ে সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তিভাবে বৈঠক করেছিলেন। মহিলার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রামের আশপাশের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত জারি রয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা।
অভিযোগ, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ কুড়ুল, তলোয়ার, তীর-ধনুক নিয়ে মালকান ভিলেন (MV) ২৬ গ্রামে হামলা চালায়। জেলা সদর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম অবস্থিত। এই গ্রামে হামলাকারীরা ঢুকে একের পর এক বাড়ি, জিনিসপত্র, পশু এবং যানবাহন পুড়িয়ে দেয়।
গত বৃহস্পতিবার পতেরু নদী থেকে ৫৫ বছরের লাকে পদিয়ামি নামের এক আদিবাসী মহিলার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়। তার মাথা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর থেকেই মালকানগিরিতে পরিস্থিতি আরও অস্থির ও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।












Click it and Unblock the Notifications