‘দেশের নিরাপত্তা ভাবছে না, রাজনীতি করছে বাংলা’, অভিবাসন বিল নিয়ে মন্তব্য বিজেপি সাংসদের
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনারস বিল বা নতুন অভিবাসন বিল, ২০২৫ উত্থাপনের পর, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার সংসদে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর, শুক্রবার বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল বলেন, "এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। এই বিলটি অবশ্যই অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে প্রবেশ বন্ধ করবে, এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি দায়িত্ব পালন করা উচিত"।

প্রসঙ্গত, অমিত শাহ গত বৃহস্পতিবার লোকসভায় বলেন, "বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করছে এবং রাজ্য সরকার সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। এর ফলে ৪৫০ কিলোমিটার বেড়ার কাজ ঝুলে আছে"। এছাড়াও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, "পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের আধার কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের ভারতের বিভিন্ন অংশে অবাধে ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে"।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "ধরা পড়া সমস্ত বাংলাদেশীর কাছে ২৪ পরগনা জেলার আধার কার্ড রয়েছে। তারা নাগরিকত্ব পাচ্ছে, ভোটার কার্ড পাচ্ছে, এবং এরপর তারা দিল্লি, মুম্বইসহ দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে"।
অমিত শাহ আরও বলেন, "যখনই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়, শাসক দলের কর্মীরা ধর্মীয় স্লোগান তুলে প্রতিবাদ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি করুণা দেখাচ্ছে, তাই আজও সীমান্ত সুরক্ষা অসম্পূর্ণ"। বিজেপি নেতারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করবে এবং তারপর অনুপ্রবেশ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে।
অমিত শাহ এই প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, "ভারত কোনো ধর্মশালা নয়। যারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না"। স্বাভাবিক ভাবেই এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি এই বিষয়ে; তবে জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে বিএসএফ।












Click it and Unblock the Notifications