লাদাখেরও আগে সামদোরং চুতে চিন-ভারত সংঘাতের কোন পরিণতি হয়েছিল! লড়াইয়ের ইতিহাস কী জানান দিচ্ছে
লাদাখেরও আগে সামদোরং চুতে চিন-ভারত সংঘাতের কোন পরিণতি হয়েছিল! লড়াইয়ের ইতিহাস কী জানান দিচ্ছে
'৬২ এর যুদ্ধ নয়। এই সংঘাত হয়েছিল আটের দশকে। যে সময় ধীরে ধীরে বিশ্বের বুকে ভারত দাপুটে পদক্ষেপ রাখতে শুরু করছিল। সেই সময় বিস্তারবাদী চিনের নজর পড়ে সামদোরং চু এলাকায়। সেই এলাকায় চিন-ভারত যুদ্ধের পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছিল লাদাখেরই মতো!

ভারত-চিন দীর্ঘ সংঘাত
লাদাখে চিনের সঙ্গে ভারতের সংঘাতের বয়স এখন ১৩০ দিন। প্রশ্ন উঠছে, কবে সংঘাত পেরিয়ে শান্তির রাস্তা ধরবে দুই দেশ। এর আগে , ২০১৭ সালে ডোকলামের সংঘাতে চিনকে টানা ৭০ দিন রক্তচক্ষু দেখিয়ে ব্যাকফুটে পাঠায় ভারত। আগ্রাসনের রাস্তা থেকে কিছুটা হলেও নরম হয়ে যায় চিন। ঐআর এই দুই সংঘাতের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে সামদোরং চুয়ের সংঘাত। যার ঘটনাস্থল অরুণাচলপ্রদেশ।

সংঘাত ও ইন্দিরা আমল
ভারত তখন সবেমাত্র প্রবেশ করেছে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে। দেশের সীমান্তকে পোক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা তখন তৎপর, কারণ তার আগে ৬২তে চিন-ভারত যুদ্ধে রক্তস্নান দেখেছে দুই দেশ। এমন সময় অরুণাচল সীমান্তের কাছে ভারত একটি পরিকাঠামো গঠনের প্রকল্প গ্রহণ করে। সেখানে প্রচুর সেনা মোতায়েনেও হয়। গোটা চিন সীমান্ত ধরে ইন্দিরা সরকার প্রবল সেনা মোতায়েন করে দেয়।

অরুণাচলে দখলদারি শুরু
ততদিনে অরুণাচলের দিকে চিনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে গিয়েছে। চিন অরুণাচলকে নিজের বলে দাবি করা শুরু করে দিয়েছে। অন্তত ভারতের অংশ বলে অরুণাচলকে তারা মানতেই চাইত না। এমন সময়ে চিনের ভাবনাচিন্তা আঁচ করেই ভারত সামদোরং চু এলাকায় সেনা পোস্ট তৈরি করে।

সামদোরচুকে কী ঘটেছিল?
সামদোরং চু মূলত একটি নদী। যা চিন-ভারত সীমান্ত থেকে একটু দূরে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে আবহাওয়া র ব্যাপক তারতম্য। তাই শীতের ভয়াবহ সময় ওখানের পোস্টে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা থাকতে না। আবার গরমকালে সেখানে ফিরে যেতেন। ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয় ১৯৮৫ সালে।

১৯৮৫ তে কী ঘটেছে?
১৯৮৫ সালে সামদোরং চুয়ের পোস্টে ভারতীয় সেনা গরমকালে ফিরে গিয়ে দেখেসেখানে চিনের সেনা স্থায়ী নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছে। মুহূর্তে দিল্লিতে খবর যায়। ততক্ষণে সেনা মোতায়েন বাড়াতে শুরু করে দেয় চিন। ভারত জানায়, চিন এলাকা ছাড়লে, ওই এলাকায় আর সংঘাতের আবহ বাড়াবেনা ভারত। চেনা মেজাজে চিন তা মানতে চায়নি। এরপর চিনকে 'পাঠ পড়ায়' ভারতীয় সেনা।

উত্তরবঙ্গ থেকে অসম ঘিরে উদ্বেগ
চিন ক্রমাগত সেখানে ৮৬ সাল থেকে আস্ফালন বাড়াতে থাকে। ততক্ষণে উত্তরবঙ্গ ও অসমে বায়ুসেনা ঘাঁটি পোক্ত করে ভারত। এরপর চিন যখন দেখে তারা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে, তখন বিষয়টি মীমাংসার জন্য তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানায় চিন। শেষে সেখানে আলোচনার টেবিলে ৯ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানো হয়। ১৯৯৫ সালে সংঘাত রোখা যায়।মনে করা হয়, ভারতের পেশী শক্তি ও কূটনীতির অন্যতম বড় জয়ের উদাহরণ সামদোরং চু সংঘাত। যা লাদাখ আবহে বেশ প্রাসঙ্গিক।












Click it and Unblock the Notifications