২০২৪ এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ও কংগ্রেসের জন্য মাথাব্যথা হতে পারে কোন ফ্যাক্টর! জানান দিল নয়া সমীক্ষা
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে কার্যত ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে লিটমাস টেস্টের জায়গা হিসাবে উঠে এসেছে বিভিন্ন রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোট থেকে বিধানসভা ভোট। সদ্য ২০২১ সালে দেশের ৫ রাজ্যে পরপর বিধানসভা ভোট সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ফলাফলে কার্যত দেখা গিয়েছে বিজেপি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। সেই জায়গা থেকে কংগ্রেসের মতো শতাব্দীপ্রাচীন পার্টিও নিজের পোক্ত গড় সামাল দিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যের বহু এলাকায়। এরপর এসেছে মুড অফ দ্যা নেশনের সার্ভে। সেখানে একাধিক বিষয় তুলে ধরেছেন সমীক্ষকরা। দেখে নেওয়া যাক ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের 'মুড অফ দ্য নেশন' এর হাত ধরে সমীক্ষায় কী কী উঠে এল?

মুড অফ দ্য নেশন ও কিছু তথ্য
'ইন্ডিয়া টুডে' মুড অফ দ্য নেশন এর সমীক্ষা বলেছে, দেশে বিজেপি ও কংগ্রেসের জন্য বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে জানুয়ারি মাসে তারা সমীক্ষা চালায়। তখন ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন বাকি ছিল। এরপর ১০ জুলাই থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ১১৫ টি সংসদয়ী ও ২৩০ টি বিধানসভা নির্বাচনী ক্ষেত্রে সমীক্ষা হয়েছে। সমীক্ষায় অংশ নেন ১৪,৫৯৯ জন। কোভিড পরিস্থিতি যেমন সমীক্ষার একটি অংশ হিসাবে উঠে আসে, তেমনই ১৯ রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক হাওয়াও মেপে নিয়েছে এই সমীক্ষা।

মোদীর জনপ্রিয়তার গ্রাফ নেমেছে
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদীর জনপ্রিয়তা যে নেমেছে তা জানান দিয়েছে মপড অফ দ্যা নেশনের সমীক্ষা। সমীক্ষায় বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেরার সেরা পছন্দ হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা নেমেছে ১৪ শতাংশ। যা নিঃসন্দেহে সামনের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে প্রাসঙ্গিক বিষয়ষ। উল্লেখ্য, এর আগে বিহার নির্বাচনের সময় দেখা গিয়েছিল যে নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তায় ভরসা করে নীতীশ কুমার সেরাজ্যে ঝোড়ো প্রচার চালিয়েছিলেন। এককালে নরেন্দ্র মোদীর কট্টর বিরোধী হিসাবে পরিচিত নীতীশের এই স্টান্সে অনেকেই অবাক হন। এরপর দেখা যাচ্ছে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে করোনার দ্বিতীয় স্রোতের পর থেকে মোদীর জনপ্রিয়তা নামতে শুরু করেছে।

সুযোগের সদ্ব্য়াবহার করেনি কংগ্রেস
এদিকে, সমীক্ষা বলছে, যেখানে নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা ১৪ শতাংশ নেমেছে , সেখানে সেই সুযোগকে ব্যবহার করতে পারেনি কংগ্রেস। কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা জানুয়ারি মাসের শুরুতেও ২০২১ সালে ৭ শতাংশ ছিল, আ ২০২১ সালের মাঝামাঝিতেও তা ১০ শতাংশ রয়েছে। তবে নিজের জায়গা থেকে জনপ্রিয়তার কমতি হতে দেননি রাহুল। বরং তা বেড়েছে। তবে মোদীর জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেননি রাহুল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে মোদীর পরই যোগা আদিত্যনাথের নাম এসেছে। যাঁকে দেশের ১১ শতাংশ সমর্থন করছেন। ফলে বিজেপির নেতাদের জনপ্রিয়তা নামলেও , তাকে সেভাবে তুঙ্গে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস।

মোদী সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ
প্রসঙ্গত, মোদী সরকারের কাছে কোভিড একটি ব় চ্যালেঞ্জ। মোদী ২.০ সরকার কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দেশের ৪৯ শতাংশ মানষ বিশ্বাস করেন। দাবি করছে ইন্ডিয়া টুডের মুড অফ দ্য নেশন সমীক্ষা। ২০১৯ সালের থেকে মোদীর ওপর আস্থার পরিসংখ্যান ৭৩ শতাংশ নিচে নামছে বলে দেখা গিয়েছে সমীক্ষায়। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানির দামের গতি। যা রীতিমতো মোদী সরকারেক বিপাকে ফেলেছে। পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১০০ পেরিয়ে যাওয়াকে অনেকেই ভালোভাবে নেননি। এছাড়াও মুদ্রাস্ফিতী নিয়ন্ত্রণে মোদী সরকার ব্যর্থ এমনটা সমীক্ষায় ৬০ শতাংশ মত দিয়েছেন।

রাহুলের সামনে চ্যালেঞ্জ
গান্ধীদের বাদ দিয়ে কংগ্রেস আরও চাঙ্গা হবে , সেটা মনে করেন দেশের ৪৫ শতাংশ মানুষ। যদিও আগে এর চেয়ে ৭ শতাংস মানুষ বেশি চেয়েছিলেন যে কংগ্রেস থেকে গান্ধীরা বেরিয়ে গেলে তা সুখকর ফল দেবে। এক্ষেত্রে রাহুল গান্ধীকে ঘিরে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে এই জায়গা থেকে ভোটের আগে পাঞ্জাব কংগ্রেসে ভাঙন রোখা নিয়ে রাহুলের কৌশলী স্টান্স বেশ প্রাসঙ্গিক হয়েছে। সেই জায়গা থেকে রাহুলের অবস্থান ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানান জল্পনার পারদ ওঠা নামা করছে।

বিজেপি ও কংগ্রেসের সামনে চ্যালেঞ্জ
২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশের ৩৩ শতাংশ জনতা মনে করেছিলেন যে দেশের অর্থনীতি আগামী ৬ মাসে কার্যত ভেঙে পড়বে। আর বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ৪৩ শতাংশ মানুষ এমনই মনে করেন। সরকারের ওপর থেকে আস্থা হারানো এই মানুষদের নিজের দিকে ফিরিয়ে আনতে রীতিমতো তৎপরতা নিতে হবে বিজেপিকে। এছাড়াও কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির সামনে একের পর এক চ্যালেঞ্জ যেন পর পর স্রোতের মতো আসতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে মোদী সরকারের স্টান্সের ওপর আগামী বছরের বিধাসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটভাগ্য নির্ভর করে রয়েছে। এদিকে, কংগ্রেসের সামনে রয়েছে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ। সঠিক নেতৃত্ব কংগ্রেসকে নতুন আসনে বসাতে পারে। ফলে ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের সমীক্ষার পরিসংখ্যান থেকে দুটি পার্টিরই বহু কিছু গ্রহণের অবকাশ রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications