সঙ্গীতের মামা-ভাগ্নে জুটি! যখন সবাই সরে গিয়েছিলেন বাপ্পির পাশে ছিলেন কিশোর কুমার
শাস্ত্রীয় পরিবারের একমাত্র সন্তান বাপ্পি লাহিড়ি হয়ে উঠেছিলেন ডিস্কো কিং। তাঁর সঙ্গে কিশোর কুমারের ছিল মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক। তা তাঁকে দিয়েছিল বিরাট মাইলেজ। সঙ্গীত জগতে তাঁর উত্থান তাই ছেদ পড়েনি।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আবহে তাঁর জন্ম। সেখান থেকে আলোকেশ লাহিড়ী থেকে বাপ্পি লাহিড়ী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাবা অপরেশ লাহিড়ী ছিলেন একজন বাংলা সঙ্গীতের জনপ্রিয় গায়ক। মা বাঁশরী লাহিড়িও ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও গায়িকা। যিনি শাস্ত্রীয় ঘরাণার সঙ্গীত এবং শ্যামা সঙ্গীতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তাদের পরিবারেরই একমাত্র সন্তান বাপ্পি লাহিড়ি সেখান থেকে হয়ে উঠেছিলেন ডিস্কো কিং। তাঁর সঙ্গে কিশোর কুমারের ছিল মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক। তা তাঁকে দিয়েছিল বিরাট মাইলেজ। সঙ্গীত জগতে তাঁর উত্থান তাই ছেদ পড়েনি। তরতরিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।

বাংলা থেকে হিন্দি- তাঁর সুরের জাদুতে মুখরিত হয়েছিল টলিউড ও বলিউড। সুবিখ্যাত গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর প্রয়াণে সঙ্গীতপ্রেমীরা এবং গোটা ইন্ডাস্ট্রি স্তম্ভিত। বাপ্পি লাহিড়ী শুধু তাঁর সুরের জাদুতেই মুগ্ধ করেননি, তাঁর কণ্ঠেও আন্দোলিত হয়েছেন সঙ্গীতপ্রেমীরা। বাংলা-হিন্দিতে মহান গায়ক কিশোর কুমার-বাপ্পি লাহিড়ী জুটিও বিশেষ জনপ্রিয় ছিল।
বাপ্পি লাহিড়ীর মায়ের আত্মীয় ছিলেন কিশোর কুমার। বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে থেকে সঙ্গীতশিল্পে তাঁর হাতে খড়ি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ছিল তাঁর রক্তে। বড় হয়ে পেয়েছিলেন কিশোর কুমারের মতো শিল্লীপ সান্নিধ্য। কিশোর কুমার সম্পর্কে তাঁর মামা। সেই সুবাদে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই মুম্বাইয়ের সফর শুরু হয়েছিল তাঁর।
১৯৭৩ সালে হিন্দী ভাষায় নির্মিত নানহা শিকারী ছবিতে তিনি প্রথম সুর করেন। এরপর তাহির হুসেনের জখমী ছবিতে কাজ করেন। এতে তিনি সুরকার ও গায়কের দ্বৈত ভূমিকায় অংশ নেন। মহম্মদ রফি এবং কিশোর কুমারের সঙ্গে দ্বৈত সঙ্গীতেও অংশ নেন তিনি। তার পরের চলচ্চিত্র চলতে চলতে ছবিটির গানও দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। রবিকান্ত নাগাইচের সুরক্ষা ছবিতে গান গেয়ে সঙ্গীতকার হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। মিঠুন চক্রবর্তী'র ডিস্কো নাচের চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।এরপর 'ডিস্কো কিং' নামে পরিচিতি হন বাপ্পি।
বাপ্পি লাহিড়ী ভারতীয় ধাঁচে ডিস্কো গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর সুররচিত গানগুলো কিশোর কুমার এবং আশা ভোঁসলে'র নেপথ্য কণ্ঠে চলচ্চিত্রের পর্দায় উদ্ভাসিত হয়েছে। কিশোর ও বাপ্পি ছিলেন মাম-ভাগ্নে। দুজনের মধ্যে গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। রক্তের সম্পর্কের থেকেও বেশি ছিল দুজনের সম্পর্ক। তাঁদের সম্পর্ক ছিল গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক। কখনও গুরু-শিষ্য, কখনও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। আবার কখনও মামা-ভাগ্নে। এই জুটি বলিউডকে উপহার দিয়েছেন অনেক স্মরণীয় গান। বলিউডে বাপ্পিকে যিনি এন্ট্রি দিয়েছেন তিনি আর কেউ নন কিশোর কুমার। তারপর বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে কিশোর কুমারের গাওয়া 'চলতে চলতে মেরে ইয়ে গীত, ইয়াদ রাখে না, কভি আলবিদা বা কহে না' তো ইতিহাস।
বাপ্পি লাহিড়ী একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, '২০ বছর বয়সে, আমি একটি কমেডি ছবি 'বদতি কা নাম দাড়ি'তে কাজ করেছি। আমি প্রযোজক পরিচালক কিশোর কুমারের ভাগ্নে ছিলাম। ওই ছবিতে আমি একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিশোর কুমার আমাকে বলেছিল, আমার মনে হয় তুই ছবিতেও কাজ করতে পারবি। তখন আমি বললাম, আমি ঠিক হিন্দি বলতে পারি না, কী করে কাজ করব।' এরপর অভিনয় না করলেও বলিউডকে স্মরণীয় গানে তিনি বলিউড মাতিয়েছেন বাপ্পি।
Recommended Video
একটা সময় ছিল যখন বলিউডে 'ডিসকো ডান্সার'-এর পর বাপ্পি লাহিড়ীর বিরাট লাভের মুখ দেখেছিলেন। কিন্তু এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বলিউডে বাপ্পী লাহিড়ীকে বয়কট শুরু করেন অনেকে। এরপর তার সুররচিত সব গান গাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই খারাপ সময়ে শুধুমাত্র কিশোর কুমার তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁর সুরে গান গেয়েছিলেন। কিশোর কুমারের প্রয়াণে তিনি এতটাই শোকস্তব্ধ হয়েছিলেন যে, গান ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত সুরের মোহজাল থেকে তিনি বেরোতে পারেনি।












Click it and Unblock the Notifications