'ভোগ থেকে বরণ' -এ সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বেঙ্গালুরুর বানেরঘাটা পুজো ফাউন্ডেশন
পুজোর গন্ধে মেতেছেন বেঙ্গালুরুর বাঙালিরা। এই বাগিচা শহরের বানারঘাটা দুর্গা ফাউন্ডেশনেও এখন পুজোর আগের জোর প্রস্তুতি।
ভোরবেলার শিউলি ফুল কিংবা আকাশে তুলোর মতো মেঘ বাংলাকে জানান দেয় মা আসছেন। তোড়জোড় শুরু হয় বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব উদযাপনের। কেনাকাটা , খাওয়া দাওয়ার আয়োজন থেকে শুরু করে পুজোর ৪ দিনের নানা প্ল্যানিং-এ মেতে ওঠে বাঙালি।
কিন্তু সুদুর প্রবাসে যে বাঙালিরা থাকেন, তাঁদের কাছে হয়তো ভোরের শিউলি ফুলের স্নিগ্ধতাকে ছোঁয়ার সুযোগ থাকে না । হয়তো বা প্রবাসের আকাশে শরতের মেঘ সেভাব ভেসে যায় না, যা দেখে চেনা যায় ঠাকুরের আগমনের সময় হয়েছে। তবুও প্রবাসে শরতের সমস্ত পবিত্রতা ছুঁয়েই সাড়ম্বরে আয়োজিত হয় দূর্গাপুজো। সেই নিয়মেই পুজোর গন্ধে মেতেছেন বেঙ্গালুরুর বাঙালিরাও।
এই বাগিচা শহরের বানারঘাটা দুর্গা ফাউন্ডেশনেও এখন পুজোর আগের জোর প্রস্তুতি।

পুজোর ঠিকানা
বেঙ্গালুরুর বানারঘাটার পুজো এবার পঞ্চমবর্ষে পড়ল। এই শহরের অনেকাল তালুকের মন্তাপাতে এবারের পুজো আয়োজিত হচ্ছে। প্রতিবারের মতো ভোগ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুজোর ৪ টে দিন মেতে উঠতে চলেছেন বানারঘাটা দুর্গা ফাউন্ডেশনের সদস্য়রা।

প্রস্তুতি কতদূর ?
পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা প্রিয়া মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, খুব শিগগিরিই ডেকোরটের এসে কাজ শুরু করে দেবেন। ভোগের আয়োজনের যাবতীয় জিনিসপত্র মজুত রয়েছে। কলকাতা থেকে মায়ের মূর্তি আসছে পঞ্চমীর রাতে। ফলে সবমিলিয়ে পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই জোর তৎপরতায় আয়োজন চলছে এই পুজোর।

পুজোর থিম কী ?
পুজোর থিম এবারে 'গ্রাম বাংলা'। ব্যাঙ্গালোরে বাংলার গ্রামের ছোঁয়া এনে দিতেই এই থিম ভাবনা।

এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ
পুজোর উদ্যোক্তা প্রিয়া মুখোপাধ্যায়ের কথায়, এই পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল, এখানে একেবার নিয়ম নিষ্ঠা মেনে সাবেকী রীতিকে পুজো করা হয়। 'মা'-এর মূর্তিকেও সেভাবেই জানানো হয়। নিয়ম মেনে ১৮ ফুটের বেলপাতার মালায় প্রতিদিন মাকে সাজানো হয়। প্রতিদিন ঘটে জবার মালা দিয়ে সাজানো হয়। এখানের দূর্গাপুজোর এটাই চিরাচরিত পরম্পরা।

পুজোর 'ভোগ থেকে বরণ সবাই স্বাগত'
এখানে ভোগের স্বাদ নিতে গেলে কোনও রকমের টিকিট বা কুপন বুকিং-এর প্রয়োজন পড়ে না। ভোগ খেতে ইচ্ছুক যে কেউই এখানে এসে ভোগ খেতে পারেন। পুজোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যেকোনও কেউই পুজো দেওয়া থেকে শুরু করে দশমীতে মায়ের বরণ করেত পারেন। গোটা পুজোটাই ঘরোয়া আমেজে আন্তরিকভাবে সংগঠিত হয় ।

ভোগের মেনু
মূলত ষষ্ঠীর দিন এখানে পোলাও ভোগ দেওয়া হয় মাকে। তারপর সপ্তমী থেকে খিচুড়ি , লাবড়া, ভাজা সহকারে এক্কেবারে বাঙালিয়ানা ভোগ দেওয়া হয় মাকে। উল্লেখ্য, এখানে যেহেতু নিরামিষ ভোগ হয় পুজোর প্রত্যেকদিন, তাই কোনওরকমের আমিষ জাতীয় খাবারের স্টল দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হয় না পুজোমণ্ডপ চত্বরে।












Click it and Unblock the Notifications