অযোধ্যা মামলার শুনানির শেষ দিনেই বাবরি মসজিদ ধ্বংস নিয়ে নিষিদ্ধ তথচিত্র প্রদর্শিত জেএনইউ-তে, বিতর্ক

গতকালই শেষ হয়েছে অযোধ্যা বিবাদ সংক্রান্ত মামলার শুনানি। শুনানির শেষ দিনে আদালতকক্ষে ম্যাপ ছেঁড়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তবে অযোধ্যা নিয়ে বতর্কের সেখানেই শেষ নয়।

গতকালই শেষ হয়েছে অযোধ্যা বিবাদ সংক্রান্ত মামলার শুনানি। শুনানির শেষ দিনে আদালতকক্ষে ম্যাপ ছেঁড়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তবে অযোধ্যা নিয়ে বতর্কের সেখানেই শেষ নয়। গতকাল জেএনইউ-তে নিষিদ্ধ তথ্যচিত্র 'রাম কে নাম' প্রদর্শিত হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

'রাম কে নাম'

'রাম কে নাম'

উল্লেখিত তথ্যচিত্রটি বানিয়েছিলেন আনন্দ পটবর্ধন। ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া তথ্যচিত্রটিতে পরিচালক দেখান কী করে বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের উষ্কানিতে ভাঙা হয়েছিল বাবরি মসজিদ। সেই তথ্যচিত্রটিই গতরাতে জেএনইউ-র ছাত্র ইউনিয়নের অফিসে দেখআনোর ব্যবস্থা করা হয়। সম্প্রতী জেএনইউ কতৃপক্ষের তরফে ছাত্রদেরে হোস্টেল সম্পর্কে নির্দেশিকা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়নের অফিসটিও খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়। কতৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই তথ্যচত্রটি দেখআনোর ব্যবস্থা করা হয়।

অযোধ্যা মামলার খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ উপদেশ জারি

অযোধ্যা মামলার খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ উপদেশ জারি

এদিকে গতকালই অযোধ্যা মামলা নিয়ে খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে বিশেষ উপদেশ জারি করে নিউজ ব্রডকাস্টিং স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি। সেখানে বলে হয়, কোনও ভাবে আদালতের কার্যপদ্ধতি নিয়ে জল্পনা করা যআবে না। শুনানি ও মামলা সম্পর্কিত শোনা যেকোনও তথ্যের সত্যতা জাচাই করতে হবে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কোনও ফুটেজ বা ছবি ব্যবহার করা যাবে না। কোনও পক্ষের কোনও উল্লাস দেখানো যাবে না। পাশাপাশি চ্যানেলগুলিকে নিশ্চিত করতে বলা হয় যাতে কোনও বিতর্ক অনুষ্ঠানে কট্টরপন্থী মনোভাবের প্রচার না করা হয়। ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল এই মামলাকে ঘিরে যাতে কোনও হিংসা না ছড়ায় সেই দিকে তাকিয়েই এই মামলা সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ উপদেশ জারি করা হয়। তবে এই উপদেশ জারির পরও নিষিদ্ধ তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ঘিরে বিতর্ক বেড়েছে।

শেষ দিনের শুনানি ঘিরে বিতর্ক

শেষ দিনের শুনানি ঘিরে বিতর্ক

গতকাল অযোধ্যা মামলার শুনানির শেষদিনে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও হিন্দু মহাসভার তরফের দুই আইনজীবীর বাদানুবাদ চরমে ওঠে। অযোধ্যা ইস্যুতে হিন্দু মহাসভার তরফে ছিলেন আইনজীবি বিকাশ সিং। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের তরফে ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীব রাজীব ধবন। হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিকাশ সিং আদালতে একটি বই পেশ করতে চাওয়ার পর ঘটনার সূত্রপাত। 'অযোধ্যা রিভিসিটেড' বইটি পেশ করাতে 'অবজেকশন' জানান রাজীব ধবন। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইজীবী রাজীব ধবন তখনই সেই বইতে থাকা ম্যাপের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে দেন। তবে তা রঞ্জন গগৈ-এর অনুমতি সাপেক্ষেই এই ম্যাপ ছেঁড়ার ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়। তবে ঘটনাটি ঘিরে বেশ ডলঘোলা হয়েছে। এমন কী এই ঘটনার জেরে রাজীব ধবনের বিরুদ্ধে ভারতীয় বার কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ দাখিল করে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।

শেষ পর্যন্ত শেষের পথে অযোধ্যা মামলা

শেষ পর্যন্ত শেষের পথে অযোধ্যা মামলা

২০১০ সালের এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অযোধ্যা সংক্রান্ত ১৪টি মামলার আবেদন জানানো হয় শীর্ষ আদালতে। সেই আবেদনগুলির যৌথ শুনানি গত দেড় মাস ধরে চলে শীর্ষ আদালতে। এদিকে আগামী মাসের ১৭ তারিখ প্রধান বিচারপতি হিসাবে মেয়াদ শেষ হচ্ছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের। এই মামলা শুরু হতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন, তাঁর অবসরের আগে এই মামলার নিস্পত্তি করে যাবেন তিনি। সেই পথেই এগোচ্ছে শীর্ষ আদালত।

কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে অযোধ্যা

কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে অযোধ্যা

অযোধ্যা মামলা ঘিরে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তৎপর হয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। অযোধ্যায় ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সেখানে আপাতত ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকার কথা জানিয়েছে সরকার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+