সাপের ফণার মতোই ভয়ঙ্কর নাম ‘ফণী’! কে করল সুপার সাইক্লোনের এমন নামকরণ
৪৩ বছর এমন ঝড় দেখেনি বাংলা বা ওড়িশা। দেশে বিগত চার দশকে এত ভয়ঙ্কর ঝড় হয়নি। সার্থক হয়েছে এই ঝড়ের নাম। নাম তার ‘ফণী’।
৪৩ বছর এমন ঝড় দেখেনি বাংলা বা ওড়িশা। দেশে বিগত চার দশকে এত ভয়ঙ্কর ঝড় হয়নি। সার্থক হয়েছে এই ঝড়ের নাম। নাম তার 'ফণী'। এই 'ফণী' তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে ওড়িশায়। এখন আবার ধেয়ে আসছে বাংলা অভিমুখে। যেমন তার তাণ্ডব, তেমনই ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো নাম। এই 'ফণী' নামকরণ করা, কেনই বা এই নাম, তা নিয়েই এই পর্যালোচনা।

‘ফণী’র নামেই আছে আতঙ্ক
এর আগে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে আছড়ে পড়েছিল ‘তিতলি'। তবে সেই নামকরণের মধ্যে সে অর্থ ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। এবারের নামকরণ সত্যিই ঝড়ের ভয়াবহতা প্রকাশ করছে। সাপের ফণার মতোই ছোবল মারতে উদগ্রীব ‘ফণী'। তাই ‘ফণী'র নামেই রয়ে গিয়েছে আতঙ্ক।

‘ফণী’ নামকরণ কার করা
কিন্তু কে দিয়েছে এমন নাম? এই ‘ফণী' নামটা দেওয়া বাংলাদেশের। ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বের দেশগুলি এই অঞ্চলের ছড়ের নামকরণ করে। সেইমতো পর্যায়ক্রমে এবার বাংলাদেশ নামকরণ করে। আঞ্চলিক কমিটি বাংলাদেশের দেওয়া এই ‘ফণী' নামটি চূড়ান্ত করেছে। এখনও সাতটি ঝড়ের নামকরণ হয়ে গিয়েছে।

নামকরণের চল কবে শুরু
তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, ঝড়ের নাম দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছিল আটলান্টিক মহাসাগরে উদ্ভূত ঘূর্ণিঝড়ের বিরাট আকার নেওয়া থেকে। ২০০৪ সাল থেকে এই নামকরণ প্রথা চলতে থাকে। যে সব ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৩৯ মাইল অর্থাৎ ৬২ কিলোমিটার অতিক্রম করত, তাদেরই নামকরণ করা হত।

হাওয়ার গতি অনুযায়ী প্রকারভেদ
আবার হাওয়ার গতি অনুযায়ী রূপ বদলাত ঝড়। হাওয়ার গতিবেগ ৭৪ মাইল বা ১২০ কিলোমিটারের প্রতি ঘন্টায় ছাড়িয়ে গেলেই সেগুলিকে সাইক্লোন, টাইফুন এবং হারিকেন হিসেবে ভাগ করা হত। তারপর নামওকরণ তো হতই।

এখন ঘূর্ণিঝড় হলেই নামকরণ
এখন সাইক্লোন, টাইফুন বা হারিকেন- যাই হোক না কেন, ঘূর্ণিঝড়কে নাম দেওয়া হয়। সারা বিশ্বে মেটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশনের আওতায় থাকা ১১টি সতর্কতা কেন্দ্র রয়েছে। সংস্থার আঞ্চলিক ট্রপিক্যাল সাইক্লোন কমিটি ঝড়ের নাম চূড়ান্ত করে। সেইমতোই বাংলাদেশের করা ফণী নামকরণ চূড়ান্ত হয়েছে।

ঝড়ের নামকরণে ৮ দেশ
বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড- এই আটটি দেশ পর্যায়ক্রমে ঝড়ের নামকরণ করে। ভারত মহাসাগর উত্তরাঞ্চলে যে কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম পাঠানো হয় আঞ্চলিক কমিটিতে। আটটি দেশের সম্মতিতেই এই নাম চূড়ান্ত রূপ পায়। এরপরের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করবে ভারত। ইতিমধ্যে তাও চূড়ান্ত। পরবর্তী ঝড়- বায়ু।












Click it and Unblock the Notifications