বাল ঠাকরের উত্তরসূরি হয়েও মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ১টি আসন পেল রাজ ঠাকরের এমএনএস
বাল ঠাকরের উত্তরসূরি হয়েও বিধানসভা নির্বাচনে ১টা আসন পেল রাজ ঠাকরের দল
বিধানসভা নির্বাচনে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। ২১ অক্টোবর হওয়া নির্বাচনে রাজ ঠাকরের এমএনএস দলের ১১০ জন প্রার্থী ভোটে দাঁড়ালেও, জিতেছেন শুধুমাত্র ১ জন। সুবক্তা ও নিজের দিকে ভিড় টানার ক্ষমতা রয়েছে ৫১ বছরের রাজ ঠাকরের। তবে এ বছরের নির্বাচনে মানুষের ভিড়কে ভোটে পরিণত করতে পারেননি তিনি।

আগের নির্বাচনের পরিণাম
২০০৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ১৩টি আসনে জিতেছিল। ২০১৪ সালে একটা আসনে জেতে এমএনএস। জানা গিয়েছে, ২০০৬ সালে শিবসেনা থেকে বেড়িয়ে রাজ ঠাকরে নিজের দল এমএনএস গঠন করেন। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে রাজ ঠাকরের দল নির্বাচনে লড়েনি। রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে গিয়েছে এমএনএস। শিবসেনা প্রতিষ্ঠাতা ও কাকা বাল ঠাকরের উত্তরসূরি হিসাবে প্রায়ই রাজ ঠাকরেকে বলা হয়। জাতীয় নির্বাচনের প্রচারে এমএনএস প্রধানকে বিরোধীদের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্বক সুরে জ্বলন্ত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছেয। সেই মন্তব্য যাতে সকলের কান পর্যন্ত পৌঁছায় তার জন্য বড় পর্দার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

বক্তা হিসাবে রাজ ঠাকরে
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য ও নির্বাচন প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজ ঠাকরের ‘লাভা রে টো' ভিডিও আজও মানুষের মনে জায়গা করে রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য শোনার জন্য দর্শকের ভিড়ে ভরে গিয়েছিল আসন। কিন্তু সুবক্তা হওয়ার পরও মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারলেন না বাল ঠাকরের বংশধর রাজ ঠাকরে। বিজেপি-শিবসেনা জোট এই ভোটে রাজ্যে ঝড় উড়িয়ে দিয়েছে। ৪৮টি আসনের মধ্যে ৪২টি আসনই তাদের দখলে। এনসিপির ঝুলিতে চারটে, কংগ্রেস একটি এবং এআইএমআইএম-এর দখলে একটি আসনে জয়ী হয়েছে।

দায়ী ইভিএম
নির্বাচনের পর রাজ ঠাকরে ইভিএম মেশিনের বদলে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের প্রস্তাব রেখেছিলেন। এমনকী তিনি কংগ্রেস ও বিজেপিকে এও জানিয়েছিলেন যে ব্যালট পেপারে ভোট না হলে যেন ওই দু'টি দল বিধানসভা নির্বাচন বয়কট করে। কিন্তু এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার এবং কংগ্রেস দু'জনেই তাঁর প্রস্তাবে সাড়া দেয় না। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই রাজ ঠাকরে প্রথমরবার দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দফতরে এসে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন ব্যালট পেপারে করানোর দাবি জানান। তিনি সেই সময় ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাজ ঠাকরের ব্যর্থতা
রাজ্যের নির্বাচনে লড়তে রাজি হলেও রাজ ঠাকরের আগ্রাসন ও অভিনব স্টাইল কোনওটাই কাজে আসেনি বিধানসভা নির্বাচনে। তিনি না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে আকৃষ্ট করতে পেরেছেন। তাঁর দল শক্তিশালী বিরোধী দল হিসাবেও কখনও আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি।












Click it and Unblock the Notifications