এই দুই ক্রাইসিস ম্যান বেঁচে থাকলে কি মহারাষ্ট্রে এভাবে ভেঙে যেত বিজেপি-সেনা জোট?
এই দুই ক্রাইসিস ম্যান থাকলে কি এভাবে ভেঙে যেত বিজেপি-সেনা জোট?
ভেঙে গিয়েছে জোট। দুই গৈরিক শরিকের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শিবসেনার উন্মত্ত আস্ফালনে কোণঠাসা হয়েছে বিজেপি। হয়তো বা বিজেপির এই সরে আসার মধ্যে নতুন কোনও রণকৌশল রয়েছে। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম দোলাচলে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ এতোটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে এত বছরের পুরনো বন্ধন মিলিয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার দড়ি টানাটানিতে ছিন্ন হয়েছে বন্ধন। সেটা মেরামত করার মতো কোনও কারিগর দুই দলের কোথাও নেই। এখন অনেকেই স্মরণ করছেন বাল ঠাকরে আর প্রমোদ মহাজানকে। দুই দলেরে শরিক হওয়ার কারিগর ছিলেন এই দুই নেতাই।

বাল ঠাকরে-প্রমোদ মহাজনের সমীকরণ
সময়টা মহারাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ বললে ভুল হবে না। একদিকে শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে। অন্যদিকে বিজেপির সংকটমোচন নেতা প্রমোদ মহাজন। দুই নেতার বিচক্ষণতার দাপটে কোনও রাজনৈতিক দল টিকতে পারেনি মহারাষ্ট্রের ভূমিতে। বাল ঠাকরের প্রবল ব্যক্তিত্ব, আর প্রমোদ মহাজনের কূটনীতি দুই মিলেিছল এক পথে। জোড়াল হয়েছিল গৈরিক শিবির। যার দাপটে এবারও তাদের জয় হয়েছে মহারাষ্ট্রের মাটিতে। কিন্তু শেষটা ভাল হল না। প্রমোদ মহাজনের সুবাদেই অটল বিহারি বাজপেয়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছিল শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরের।

মোদীর সঙ্গে সুস্পর্কে নেই উদ্ধবের
প্রমোদ মহাজনের কূটনৈতিক রণকৌশলে যে সুসম্পর্ক অটল বিহারি বাজপেয়ীর সঙ্গে তৈরি হয়েছিল মোদীর সঙ্গে উদ্ধব ঠাকরের সেই সুস্পর্ক কোনওদিনই তৈরি হয়নি। বরং আরও বেশি করে খারাপ হয়েছে সম্পর্ক। বিজেপির তেমন কোনও নেতা মহারাষ্ট্রে নেই যে এই সুসম্পর্কের পথটা তৈরি করতে পারে। এমনকী বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গেও উদ্ধবদের সেই সুসম্পর্ক তৈরি হয়নি। কারণ ফড়নবীশ কখনওই বিজেপি শিবসেনার মধ্যে সেই ক্যাটালিস্টের ভূমিকা নিতে পারেনি।

বাল ঠাকরে-প্রমোদ মহাজনের অভাব
বাল ঠাকরে মারা যান ২০১২ সালে। তার আগেই মারা গিয়েছিলেন প্রমোদ মহাজন। ২০০৬ সালে। প্রমোদ মহাজান মারা যাওয়ার পর পঙ্কজা মুণ্ডে শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির সুসম্পর্ক বজায় রেখতে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু বাল ঠাকরের পর শিবসেনার মধ্যে এমন কোনও নেতা তৈরি হয়নি যিনি বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন। যার পরিণতি এই পরিস্থিতি। মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনেই এই ফাটল ধরা পড়েছিল। বিধানসভা ভোট আসতে আসতে তা আরও চওড়া হয়। অমিত শাহরাও তার মেরামতিতে কোনও উদ্যোগ দেখাননি।












Click it and Unblock the Notifications