একমাসে গ্রামে মৃত্যু ৩৪ জনের, তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ‌তদন্ত শুরু প্রশাসনের

একমাসে গ্রামে মৃত্যু ৩৪ জনের, তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ‌তদন্ত শুরু প্রশাসনের

দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের লাগামছাড়া সংক্রমণ ক্রমেই পরিস্থিতিকে খারাপের দিকে চালনা করছে। অব্যাহত রয়েছে মৃত্যু মিছিলও। এরই মধ্যে গত একমাসে লুম্ব গ্রামে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং যার মধ্যে অধিকাংশের দেহে কোভিডের উপসর্গ পাওয়া গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মৃতদের তালিকা ভাইরাল হতেই বাগপত জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

গ্রামবাসীরা এই তালিকা তৈরি করেন

গ্রামবাসীরা এই তালিকা তৈরি করেন

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একটি দল প্রতিদিন গ্রাম পরিদর্শন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট এবং ওষুধ বিতরণ করছে। এই দলটি তালিকায় উল্লেখ করা মৃতদের ব্যাপারে তাঁদের বাড়ি গিয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করছে। এই লুম্ব গ্রামে ১২০০ জনের জনসংখ্যার বাস বলে জানা গিয়েছে। সদ্য জয়ী হওয়া গ্রাম প্রধান বাহাদুর সিং এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কিছু সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা এই মৃত্যু সম্পর্কে তদন্ত করতে আসেন, সেই সময়ই গ্রামবাসীরা এই তালিকা তৈরি করে এবং সেখানে দেখা যায় যে এই গ্রামে গত একমাসে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও তিনি এটা দাবি করেছেন যে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তালিকা আপলোড করেননি।

কোভিড উপসর্গ ছিল মৃতদের

কোভিড উপসর্গ ছিল মৃতদের

সিং জানিয়েছেন মৃতদের মধ্যে অনেকেরই বয়স হয়েছিল এবং কিছুজনের জ্বর ছিল। প্রথমবার গ্রাম প্রধান হওয়ার পর ৫৫ বছরের বাহাদুর সিং বলেন, '‌অধিকাংশ বাসিন্দাই তাঁদের বাড়িতেই মারা গিয়েছে এবং কিছুজনের কোভিড উপসর্গ ছিল।'‌ সিং এর সঙ্গে এও যোগ করে বলেন, '‌স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদের তালিকা তৈরি করেছে কিন্তু আমি তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করিনি। গত তিনদিন ধরে, চিকিৎসকরা নিয়মিতভাবে গ্রাম পরিদর্শনে আসেন এবং টেস্ট করছেন, তাঁরা গ্রামে মৃতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।'‌ স্থানীয় বাসিন্দা সুরেশ জানিয়েছেন যে তাঁর কাকু রঘুবীর (‌৮২)‌ একমাস আগে দীর্ঘদিন রোগে ভুগে মারা গিয়েছে। সুরেশ বলেন, '‌আমি এটা বলছি না যে তিনি কোভিড পজিটিভ ছিলেন কারণ তিনি কোনও টেস্ট করাননি। এক সপ্তাহ আগে আমার প্রতিবেশী অম্বাতি (‌৭০)‌ মারা গিয়েছেন। তাঁরও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।'‌

 একমাস নয়, দু’‌মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু

একমাস নয়, দু’‌মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু

যদিও জেলা প্রশাসন গ্রামে একমাসের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছেন। তালিকায় থাকা মৃত গ্রামবাসীদের বিষয়ে যাচাই করে দেখছেন উর্ধ্বতন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। চাপরৌলির কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে গ্রাম পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাগপতের মুখ্য মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ আর কে ট্যান্ডন বলেন, '‌স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন আধিকারিকদের দল প্রত্যেক গ্রামবাসীর মৃত্যু যাচাই করে দেখছেন। তাঁরা মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন। আমরা এখনও পর্যন্ত যা জানতে পেরেছি যে দু'‌মাসের মধ্যে ৩৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন, যার মধ্যে হৃদরোগ ছিল এবং অনেক মৃতদের বয়সও হয়েছিল। কোনও মৃত্যুই কোভিডের কারণে হয়নি।'‌ তিনি এও জানিয়েছেন যে তদন্ত চলাকালীন দেখা গিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা মৃতদের ভুয়ো তালিকা তৈরি করে তা আপলোড করেছেন। ট্যান্ডন বলেন, '‌এই বিষয়ের ওপর তদন্ত প্রায় সম্পূর্ণ এবং এই রিপোর্ট আমি জেলা শাসকের কাছে গিয়ে জমা দেব।'‌

 গ্রামে তিনটি সক্রিয় কেস

গ্রামে তিনটি সক্রিয় কেস

কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুপারিনটেনডেন্ট রাজ কুমার বলেছেন, '‌গ্রামবাসীদের অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর টেস্ট উভয় করা হয়েছে। সোমবার, ১০০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার ২৫টি নমুনা।'‌ বাগপতের জেলা শাসক রাজ কুমার যাদব বলেন, '‌স্বাস্থ্য বিভাগের দলটি নিয়মিতভাবে গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও প্রমাণ তাঁরা পাননি। গ্রামে ওষুধও বিতরণ করেছে এই দলটি। এই গ্রামে তিনটি সক্রিয় কেস রয়েছে।'‌ ৩৪ জনের মৃত্যুর দাবি নিয়ে জেলা শাসক জানিয়েছেন প্রধান মৃতদের কোনো তালিকা প্রকাশ করেননি এবং এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি জারি করেননি। এর পেছনে অন্য কারোর হাত রয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+