উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পড়ুয়ারা? দেশের শীর্ষ আইআইটিগুলির পরিসংখ্যানে উদ্বেগ
উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পড়ুয়ারা? দেশের শীর্ষ আইআইটিগুলির পরিসংখ্যানে উদ্বেগ
করোনা সঙ্কটের জেরে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ দেশের সমস্ত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়। পঠনপাঠনের জন্য বর্তমানে একমাত্র ভরসা সেই অনলাইন মাধ্যম। যদিও সারা দেশে ইন্টারনেটের বিস্তার সমান না থাকায় যার জেরে শ্লথ হয়েছে শিক্ষার গতি। গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে স্কুল ছুটের সংখ্যা।কিন্তু এবার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ক্রমেই বাড়ছে 'ড্রপআউটের’ সংখ্যা। এমনকী খোদ আইআইটি-র মতো দেশের প্রথমসারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি থেকেও পড়াশোনা শেষ না করেই বিদায় নিচ্ছেন বহু পড়ুয়া।

৭ আইআইটি হু হু করে বাড়ছে কলেজ ছুটের সংখ্যা
তবে বর্তমানে স্নাতক স্তরে দেশের শীর্ষ ৭ আইআইটি থেকে কলেজ ছুটের সংখ্যার পরিসংখ্যানে অবাক হচ্ছেন সকলে। নয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে গত ৫ বছরে আইআইটি ছুট পড়ুয়ার ৬৩ শতাংশই সংরক্ষিত শ্রেণির। সহজ কথায় তাদের মধ্যে সিংহভাগই তপশীলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়া। সম্প্রতি সংসদে এই বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলার সময় রাজ্যসভায় এই তথ্য পেশ করা হয়েথে দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে।

কি বলছে পরিসংখ্যান
অন্যদিকে আইআইটি ছুট পড়ুয়াদের মধ্যে ৪০ শতাংশ তপশীলি জাতি, উপজাতি শ্রেণির বলে জানা যাচ্ছে। তবে একক বিচারে এক একটি প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭২ শতাংশেরও উপরে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট দেশের এই সমস্ত অভিজাত প্রতিষ্ঠান গুলিতে এই বিশাল পরিমাণ সংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়ারা মুখ ফেরাচ্ছেন তার অন্যতম কারণ অবশ্যই সামাজিক বিভাজন। এদিকে বেশিরভাগ আইআইটি গুলির মোট আসনের মধ্যে ২৩ শতাংশ আসনই তপশীলি জাতি, উপজাতি শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা যায়।

কি বলছেন আদিবাসী অধিকার রক্ষা কর্মীরা
কিন্তু শুরুতে ভর্তি হলেও দিনের শেষে কিছুতেই পড়াশোনার পাঠ শেষ করতে পারছেন না দেশের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পড়ুয়ারা। এদিকে এই সমস্ত অভিজাত উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার চাপ ও প্রতি ক্ষেত্রে পদে পদে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণেই পড়াশোনা করতে ভয় পাচ্ছেন অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়ারা, বহু দিন থেকেই এই দাবি করে আসছেন দেশের অনেক দলিত এবং আদিবাসী অধিকার রক্ষা কর্মীরা।

কি বলছেন শিক্ষামন্ত্রী
যদিও, এই প্রসঙ্গে ভিন্ন যুক্তি রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানে। তাঁর দাবি অন্যান্য শাখায় পড়াশোনার ইচ্ছা,ব্যক্তিগত পছন্দ, ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকর্ষণের কারণেই নাকি এই বিশাল সংখ্যক পড়ুয়া আইআইটি ছাড়ছেন। কিন্তু তাই বলে আইআইটির মতো একদম প্রথমসারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পিছনে আদপেই কি যুক্তি তা পরিষ্কার করতে পারেনি তিনি।












Click it and Unblock the Notifications