কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল ২০২৩: তাঁর হাত ধরেই শুরু অপারেশন পদ্ম, সেই ইয়েদুরাপ্পার রাজনৈতিক জীবন কি অস্তাচলে?
কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল ২০২৩: বিএস ইয়েদুরাপ্পা, যিনি কর্নাটকে পদ্ম ফোটানোর কারিগর (Karnataka Election Results 2023) ছিলেন, শনিবার ফল প্রকাশের পর তিনি অত্যন্ত আঘাত পেয়েছেন। অন্তত ১২৫ টি আসনে এবার পদ্ম ফোটাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আসন সংখ্যা এসে ঠেকেছে ৬৫ টিতে।
কর্নাটকের ফলাফল থেকে মনে করা হচ্ছে, ইয়েদুরাপ্পার রাজনৈতিক জীবনের সূর্যাস্ত আসন্ন। গণনার ঠিক আগে তাঁর একটি ছবি সামনে এসেছে, যেখানে তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছে, হতাশা চাপা দিতে চোখে মুখে সাহস ফোটানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, গণনার আগে ইয়েদুরাপ্পা বলেছিলেন, শুধুমাত্র বিধানসভা নির্বাচন নয়, লোকসভায় এই রাজ্য থেকে সর্বাধিক সাংসদ পাঠাতে চান তিনি। তবে ফলাফল বলে দিচ্ছে, তাঁর সেই আশায় জল ঢেলেছে বিধানসভা ভোট।
বরাবরই সাহসী নেতা হিসেবে পরিচিত ইয়েদুরাপ্পা। ২০০৮ সালে কৃষকের নামে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন ইস্যুতে দৃঢ় থাকতেই দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর তাঁর হতাশা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিজেপি এই নেতার ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, এবার নির্বাচনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছিলেন তিনি।
দলের নেতাদেরও উৎসাহিত করেছিলেন। রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছিলেন। কিন্তু ভোটারদের মনে কী চলছিল, সেটা বোধহয় বুঝে উঠতে পারেননি ইয়েদুরাপ্পা। একদিকে, ইয়েদুরাপ্পার ঝুলিতে রয়েছে চারবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একবারও পুরো মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারেননি তিনি। নানা বিতর্ক আর দুর্নীতির দাগ লেগেছে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে।
রাজনীতির ক্ষেত্রে আরও বেশি সফল হতে নিজেকে অনেক বদলেও ফেলেছিলেন তিনি। দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য, রাজনীতির প্রতি ভালবাসা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি কখনও। ২০০৮ সালে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র তিনটি আসন দূরে ছিল বিজেপি, তখন অপারেশন কমলা শুরু করেছিলেন তিনি।

জেডিএসের দুই বিধায়ক ও এক কংগ্রেস বিধায়ককে নিয়ে সরকার গড়ে ফেলে বিজেপি। ছিলেন বেশ কয়েকজন নির্দল প্রার্থীও। শোনা যায়, দলের মতামত না নিয়েই এই কাজ করেছিলেন তিনি। ২০১৯ ফের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেবারও ১০৫ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল বিজেপি। আবারও আসরে নামে ইয়েদুরাপ্পা।
কংগ্রেস ও জেডিএস থেকে মোট ১৭ জনকে দলে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। একটা সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল ইয়েদুরাপ্পার। এমনও সময় গিয়েছে, যে মন্ত্রীদের পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি পেতে ২২ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তবে কঠোর পরিশ্রমে বিজেপিতে তিনি তাঁর নিজের জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। রাজনীতির কেরিয়ার শেষ হবে কি না, জানা নেই, তবে কৃষকদের, এমনকী সংখ্যালঘু কৃষকদের সাহায্য় করার জন্য সবসময় স্মৃতিতে থাকবেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications