সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হতে চলেছেন বি আর গাভাই, ১৪ মে নেবেন শপথ
ভারতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই-কে দেশের ৫২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক এই সুপারিশ গ্রহণ করলে বিচারপতি গাভাই আগামী ১৪ মে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ১৩ মে অবসর নেবেন।

দ্বিতীয় দলিত প্রধান বিচারপতি -
বিচারপতি গাভাই হতে চলেছেন দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় দলিত প্রধান বিচারপতি। তাঁর আগে ২০০৭ সালে বিচারপতি কেজি বালকৃষ্ণণ ছিলেন প্রথম দলিত প্রধান বিচারপতি। এই নিয়োগ ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় সামাজিক অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত করা হচ্ছে।
জন্মগ্রহণ ও আইনি পেশায় জীবনধারণ -
১৯৬০ সালের ২৪ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি গাভাই। ১৯৮৫ সালের ১৬ মার্চ তিনি আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। তাঁর কেরিয়ারের শুরুতে তিনি প্রয়াত বার রাজা এস. ভোঁসলে-র অধীনে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে বোম্বে হাইকোর্টে স্বাধীনভাবে অনুশীলন শুরু করেন।
প্রধানত নাগপুর বেঞ্চে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আইনের ক্ষেত্রে তিনি প্র্যাকটিস চালিয়ে যান এবং নাগপুর পৌর কর্পোরেশন, অমরাবতী পৌর কর্পোরেশন এবং অমরাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেন। দীর্ঘদিন তাঁর অধীনেই ছিল এই সকল বিষয়।
বিচারপতি হিসেবে অভিজ্ঞতা -
২০০৩ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি বোম্বে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০০৫ সালের ১২ নভেম্বর তিনি স্থায়ী বিচারক পদে নিযুক্ত হন। হাইকোর্টে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মুম্বই, নাগপুর, ঔরঙ্গাবাদ ও পানাজির বেঞ্চে বিচারকার্যে অংশগ্রহণ করেন।
২৪ মে, ২০১৯-এ তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। তাঁর অবসর গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি প্রায় ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবেন। আর সুপ্রিম কোর্টের সকল বিচারপতি মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি হওয়ায়, তাঁকেই বেছে নিলেন সঞ্জীব খান্না।
গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ভূমিকা -
বিচারপতি গাভাইয়ের নাম রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রায়ের সঙ্গে। এর মধ্যে রয়েছে - ১) ২০১৬ সালের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখা, এবং ২) নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা। এইসব রায়ে তাঁর মতামত বিচারিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে। আর এবার প্রধান বিচারপতি হিসেবে সামলাবেন আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।












Click it and Unblock the Notifications