ভোরে আজানের শব্দে ভাঙছে ঘুম, ‘কড়া ব্যবস্থা’ যোগী সরকারের

ভোরে আজানের শব্দে ভাঙছে ঘুম, ‘কড়া ব্যবস্থা’ যোগী সরকারের

ভোরের আজানের ফলে অসময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ইতিপূর্বে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসেন বলি গায়ক সোনু নিগমের নাম। পাশাপাশি অভিনেত্রী সুচিত্রা কৃষ্ণমূর্তিও ভোরের আজানের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ তুলে টুইট করেন। জবাবে সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানালেও তাতে যে ধোপে টেকেনি, তা স্পষ্ট সাম্প্রতিক ঘটনাতেই। ভোরবেলায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর কারণে নিষিদ্ধ হতে চলেছে ভোরের আজান, জানাল উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ প্রশাসন। স্বাভাবিকভাবেই যোগী সরকারের এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ উত্তরপ্রদেশের মুসলিম নাগরিকরা।

এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অভিযোগ

এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অভিযোগ

ভোর সাড়ে পাঁচটার আজানে ভেঙে যাচ্ছে গভীর ঘুম, আজান শেষের পর শত চেষ্টাতেও ফিরছে না ভেঙে যাওয়া ঘুম, ফলে শুরু হচ্ছে মাথা যন্ত্রণা। অযাচিতভাবে আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ফলে সারাদিনই ক্লান্তি অনুভব হচ্ছে, এহেন অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ভোরবেলায় মাইকে আজান বন্ধের জন্য জেলাশাসককে চিঠি লিখে অভিযোগ জানান এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সঙ্গীতা শ্রীবাস্তব। সূত্রের খবর, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাত্রি ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইকে আজান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রয়াগরাজ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর কেপি সিং।

রমজান মাসের আগেই নিষিদ্ধ মাইকে আজান

রমজান মাসের আগেই নিষিদ্ধ মাইকে আজান

উত্তরপ্রদেশ সূত্রে খবর, প্রয়াগরাজের পুলিশ ইন্সপেক্টর কেপি সিং প্রয়াগরাজ অঞ্চলের অন্তর্গত চার জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে রাত ১০ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত যাতে মাইকে আজান বন্ধের আর্জি জানান বলে খবর। পরিবেশ আইন এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়ের ভিত্তিতেই যে এহেন নির্দেশ, সে কথা স্পষ্ট করেছেন কেপি সিং। পাশাপাশি জেলাশাসককে লেখা সঙ্গীতার বক্তব্য, "আমি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের বিরোধী নই। কিন্তু রমজান মাসে ভোর চারটে থেকে মাইকে যেভাবে তারস্বরে আজান হয়, তাতে এলাকার অনেকেই সমস্যায় পড়েন।"

 কড়াপক্ষেপ জৌনপুর জেলার প্রশাসনের

কড়াপক্ষেপ জৌনপুর জেলার প্রশাসনের

সূত্রের খবর অনুসারে, গত বছর জানুয়ারিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে একটি মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয় তারস্বরে মাইকে বাজিয়ে মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি কোনও কাজের কথা নয়। জানা যাচ্ছে, এরপরেই উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার প্রশাসন মাইকে আজান দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করে। অন্যদিকে প্রশাসনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক ব্যক্তি। সেই মামলার ক্ষেত্রেও আদালতের সাফ বক্তব্য, "কোনো ধর্মই মাইক বা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ধর্মাচরণের নির্দেশ দেয় না। মানুষের অসুবিধা সৃষ্টির কথা বলে না।"

 উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ

উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ

ইতিপূর্বে মুসলিম সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নানাভাবে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। আজান বন্ধ করা যে এই 'হিন্দুত্ববাদী' সরকারের আর একটি মাস্টারস্ট্রোক, সেই কথাই বলছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা। সূত্র মোতাবেক, মাইক বাজিয়ে ধর্মীয় আচারঅনুষ্ঠান পালন করার ক্ষেত্রে একেবারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি আদালত। বরং মাইক বাজার সময়ে অন্য কোনও ব্যক্তির যাতে অসুবিধা না হয়, সেই দিকে খেয়াল রাখার কথা বলেছে আদালত। আদালতের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই যে প্রয়াগরাজে রাত ১০টা- সকাল ৬টা পর্যন্ত মাইকে আজান বন্ধ করল সরকার, তা স্পষ্ট সকলের কাছেই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+