Ayodhya: ৭১ একর জমিতে তৈরি মন্দিরের ৬টি ভাগ, এক নজরে অযোধ্যার রাম লাল্লার মন্দিরের ব্লু-প্রিন্ট
অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিন ক্রমশ এগিয়ে আসছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজ সজ্জা। ২০২৪-র লোকসভা ভোটের আগে মোদী সরকারের মেগা ইভেন্ট এই অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধন। সেকারণে এই মন্দিরের নির্মাণে আতিশয্যের কোন ও কমতি রাখা হয়নি।
৭১ একর জমির উপর তৈরি হচ্ছে রাম লাল্লার নতুন আবাসস্থল। তাতে শুধু মন্দির তৈরি হয়েছে ২.৭৭ একর জমিরক উপরে। ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে মন্দিরটিকে। তারমধ্যে রয়েছে মন্দিরের গর্ভগৃহ অর্থাৎ যেখানে বসবে রাম লাল্লার মূর্তি। এছাড়াও মন্দিরের পাঁচটি ভাগ রয়েছে।

প্রত্যেকটি ভাগের একটি করে নাম রয়েছে। গুণ মণ্ডপ, রঙ্গ মণ্ডপ, নৃত্য মণ্ডপ, কীর্তণ মণ্ডপ এবং প্রার্থনা মণ্ডপ। ১৬১ ফুট উচ্চতা মন্দিরের। তাতে তিনটি তলা রয়েছে। প্রত্যেকটি তলার উচ্চতা ১৯.৫ ফুট করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অনেক গবেষণা করে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে। তীব্র ভূমিকম্প থেকে প্রাকৃতিক কোনও বিপর্যয় এই মন্দিরে একচুল আঘাত হানতে পারবে না। ১০০০ বছর পর্যন্ত মন্দিরের কোনও মেরামতির প্রয়োজন হবে না।
জানা গিয়েছে পোক্ত মন্দির নির্মাণ করার মতো মাটি ছিল না সেই জায়গার। মাটিতে বালির ভাগ বেশি ছিল। আইআইটি এবং আইআইএমের গবেষকরা এসে মাটি পরীক্ষা করে তারপরে মন্দির তৈরি শুরু হয়। জমি পরীক্ষা করার জন্য আইআইটি গুয়াহাটির গবেষকরা এসেছিলেন। তারা সার্ভে করে গিয়েছিলেন প্রথমে। জমিকে মন্দির নির্মাণের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে ২০,০০০ কিউবিক মিটার কাদামাটি সরানো হয়েছে প্রথমে।
পোক্ত ভিত্তি তৈরির জন্য ১৪ মিটার চওড়া ৫৬টি স্তরে কৃত্তিম পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভিত্তি। কিন্তু তারপরেও সেই কৃত্তিম পাথর প্রচুর পরিমাণে জল শুষে নিচ্ছিল। তার পরে ১৭,০০০ টি গ্র্যানাইটের ব্লক ২১ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত দিয়ে পোক্ত করা হয় ভিত্তি। রাজস্থানের ভরতপুরের বনসি থেকে বিশেষ পাথর নিয়ে আসা হয়েছে মন্দির নির্মাণের জন্য। কারণ এই পাথর গুলিতে সুন্দর নকশা করা যায় এবং সেই সঙ্গে এই পাথরগুলি চকচকেও।
পুরো মন্দির নির্মাণে ৫ লক্ষ স্যান্ড স্টোন ব্যবহার করা হয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহ তৈরি হয়েছে মকরানা মার্বেল দিয়ে। রামলাল্লার িসংহাসনও তৈরি করা হয়েছে এই মার্বেলে। তিনজন শিল্পী প্রত্যেকটি মূর্তি তৈরি করেছেন। যে মূর্তিটি সবচেয়ে সু্ন্দর সেটিই প্রতিস্থাপন করা হবে মন্দিরে।
এই মন্দিরে দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পের ছোঁয়াও রয়েছে। আগামী ২৪ জানুয়ারি মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর ৪৮ দিন ধরে চলবে মণ্ডল পুজো। সেই পুজোর জন্য দক্ষিণ ভারত থেকে শিল্পীদের িনয়ে আসা হয়েছে। মন্দিরের একতলায় রয়েছে একটি মিউজিয়াম। তার নাম রাম দরবার। তবে দ্বিতীয় তলকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হবে সেটা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
মন্দিরের দর্শনার্থীদের জন্য করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ২৫ হাজার পূন্যার্থী মন্দির দর্শনে আসতে পারেন একসঙ্গে। তাঁদের মোবাইল ফোন, জুতো, টাকার ব্যাগ, ব্যাগ রাখার জন্য আলাদা করে লকার তৈরি করা হয়েছে। তৈরি থাকবে একটি মেডিকেল সেন্টার। সেখানে প্রাথমিক িচকিৎসার সব সরঞ্জাম থাকবে। এছাড়া বিশেষ ভাবে সক্ষম দর্শনার্থীদের জন্য হুইল চেয়ার এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য লিফটের ব্যবস্থা থাকছে।
এছা়ড়া নিকাশি ব্যবস্থা এবং বর্জ পদার্থে যাতে দূষণ না ছড়ায় তার জন্য রিসাইকেল প্ল্যান্ট থাকবে মনন্দির চত্ত্বরে। এছাড়া মন্দিরের নিজস্ব বিদ্যুৎ পরিষেবা থাকবে। তাতে ৩৩ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার থাকবে। থাকবে জল পরিশুদ্ধ করার যন্ত্র। সরযূ নদীর জল পরিশুদ্ধ হয়ে আসবে মন্দিরে। এছাড়া মন্দিরের ৫০ একর জমিতে জঙ্গল তৈরি করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications