খুলে গেল অযোধ্যার রাম মন্দিরের দরজা, সকাল থেকেই রামলালার দর্শনে ভিড় পুণ্যার্থীদের
আজ থেকে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে রাম মন্দিরের দরজা। প্রথম দিনেই জনজোয়ার মন্দির চত্ত্বরে। সকলেই প্রথমে দর্শন করতে চান রামলালার। ভিড়ের চাপ সামাল দিতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন মন্দির কমিটির সদস্যরা।
গতকাল রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলেছে সেই অনুষ্ঠান। তারপরে একাধিক আচার অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল কেবল আমন্ত্রিত অতিথিরাই দর্শন করতে পেরেছিলেন রামলালার। অন্যপু্ণ্যার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা িছল। আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেকথা। সেকারণে যেদিন সাধারণের জন্য প্রথম দর্শন দেবেন রামলালা সেদিন যে ভিড় উপচে পড়বে তা আগে থেকেই ভাবনাচিন্তা করে রেখেছিলে মন্দির কমিটির সদস্যরা।

রামলালার আরতি এবং দর্শনের জন্য িনর্দিষ্ট পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনলাইনে বা মন্দির চত্ত্বরে এসে ২৪ ঘণ্টা আগে সেই পাস সংগ্রহ করতে হবে পুণ্যার্থীদের। ২৩ তারিখ কাকভোর থেকেই বলা চলে প্রায় মধ্য রাত থেকেই রাম মন্দিরের সামনে ভিড় করতে শুরু করেছিলেন পুণ্যার্থীরা। সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম আরতি হয় রামলালার। তার পরেই খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা।
যেপরিমান ভিড় হয়েছে রামলালার মন্দিরে তা রেকর্ড বললে ভুল হবে। প্রায় জনপ্লাবন তৈরি হয়েছে রাম মন্দির চত্ত্বরে। ভিড় সামাল দিতে ভলেন্টিয়াররা হিমসিম খাচ্ছেন। এতোটাই কঠিন পরিস্থিতিত তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে রামলালাকে দর্শনের জন্য মন্দিরের গর্ভগৃহেও চলছে ঠেলাঠেলি হুড়ো হুড়ি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন পুরোহিতরাও।
কালো পাথরের তৈরি রামলালার বিগ্রহে ৫ বছরের বালকের সারল্য রয়েছে। গতকাল রামলালার মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর মূর্তিকার শিল্পী অরুণ যোগীরাজ বলেছেন তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যশালী ব্যক্তি। হাজার হাজার সাল ধরে মানুষ তাঁর সৃষ্টিকে পুজো করবেন। এখানেই তাঁর কাজের স্বার্থকতা। ৬ ফুট উচ্চতার রামলালার মূর্তিটি বসানো হয়েছে একটি বেদিতে। তার উচ্চতা হয়ে গিয়েছে ৮ ফুট।
গতকাল রামলালাকে অসাধারণ করে সাজানো হয়েছিল। সোনার মুকুট, হিরের টিকা, ডিজাইনার বস্ত্র, সোনার তির-ধনুক, সোনার উপরে রত্ন খচিত গয়না দিয়ে সাজানো হয়েছিল মূর্তিটি। মূর্তির সামনে অযোধ্যার পুরনো রামলালার মূর্তিও রয়েেছ। সেখানে রামলালার সঙ্গে তাঁর চার ভাই ভরত, শত্রুঘ্ন, লক্ষ্মণও রয়েছেন। যাতে ভক্তরা দূর থেকে রামলালাকে দর্শন করতে পারেন সেকারণেই এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট।
নগর স্টাইলে তৈরি করা হয়েছে রাম মন্দির। যার বিস্তার পূর্ব পশ্চিমে ৩৮০ ফুট থেকে ২৫০ ফুট। মাটি থেকে ১৬১ ফুট উঁচুতে তৈরি করা হয়েছে মন্দিরটি। ৩৯২টি পিলারের উপরে তৈরি ৪৪টি দরজা রয়েছে তাতে। মন্দির জুড়ে রয়েছে হিন্দু দেবদেবীদের মূর্তি। রাজস্থান থেকে আনা মার্বেল পাথরে তৈরি করা হয়েছে মূর্তিিট। মন্দিরের ৪২িট দরজায় সোনার পাত বসানো হয়েছে।
সকাল থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ভিড় করেছেন রাম লালার মন্দিরে। ৫৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে গতকাল। অযোধ্যায় রাম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদী উদ্বোধন করেন রামলালার মূর্তির। সন্ধেবেলা অকাল দীপাবলিতে মেতে উঠেছিল অযোধ্যা। সরযূ নদীর তীকে হাজারহাজার প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। যেমন ১৪ বছরের বনবাসের পরে অযোধ্যায় রাম-সীতা-লক্ষ্মণ ফেরার পরে হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications