অযোধ্যা বিতর্কে ধর্মের কোনও যোগ নেই, বলল সুপ্রিম কোর্ট, আর কী জানাল আদালত
প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোর ভূষণ ও বিচারপতি এস আব্দুল্লাকে নিয়ে তৈরি বেঞ্চ পরিস্কার জানিয়ে দেয়, ল্যান্ড স্যুইটের ভিত্তিতে এই মামলায় আবেদন এবং পাল্টা আবেদন দায়ের হয়েছে।
৭০ বছর ধরে চলা অযোধ্য়া বিতর্ককে এক লহমায় সাধারণ জমি বিতর্কে নামিয়ে আনল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার অযোধ্য়া বিতর্ক নিয়ে রীতিমতো উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। এদিন এই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বেঞ্চে। আর সেই শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন অযোধ্য়া বিতর্কে কোনওভাবেই ধর্মের যোগ নেই। এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা জমি বিতর্কের মামলা।

এই শুনানিতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের আবেদনও জানানো হয়। বলা হয় অযোধ্যা বিতর্ক দেশজুড়ে বিপুল প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অথচ এই বিতর্কের কোনও সুরহাই মিলছে না। তাই তৃতীয় পক্ষককে এই মামলার সঙ্গে জড়ানোর অনুমতি দিক শীর্ষ আদালত।
কিন্তু, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোর ভূষণ ও বিচারপতি এস আব্দুল্লাকে নিয়ে তৈরি বেঞ্চ পরিস্কার জানিয়ে দেয়, ল্যান্ড স্যুইটের ভিত্তিতে এই মামলায় আবেদন এবং পাল্টা আবেদন দায়ের হয়েছে। আর যারা এই মামলায় পার্টি হয়েছে তাঁদের আইনজীবীরা সওয়াল-জবাবের পক্ষে যথেষ্টই উপযুক্ত। তাই এই মামলার শুনানিতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনও দরকার নেই।
মামলায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা আইনজীবী সি ইউ সিং প্রধানবিচারপতির বেঞ্চকে জানান, সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর হস্তক্ষেপেই অযোধ্যা বিতর্ক এতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। সুতরাং, তৃতীয় পক্ষকে এই মামলায় সওয়াল-জবাব করার সুযোগ দেওয়া হোক। এতে ক্ষিপ্ত হন প্রধানবিচারপতি। কার্যত ভর্ৎসনার সুরেই প্রধানবিচারপতি জানিয়ে দেন, সেটা তাঁর জানার কথা নয়। কারণ, এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল তাঁর পূর্ববর্তী প্রধান বিচারপতির সময়ে।
হিন্দুত্ববাদীদের দাবি অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই রাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এর জেরে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বিতর্কিত জমির পাশে থাকা বাবরি মসজিদ ভাঙতে শুরু করে করসেবকরা। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ অযোধ্যার বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু, এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন এবং তার পাল্টা আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে।
সেই থেকে এই মামলা ঘিরে এখন পর্যন্ত রামায়ণ, ভগবত গীতা, সংস্কৃত ও পালি ভাষা থেকে নেওয়া ৫০০-রও বেশি নথিপত্র শীর্ষ আদালতের কাছে জমা পড়েছে। এছাড়াও জমা পড়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রিপোর্ট। এখনও এই মামলায় যে সব প্রমাণ ও নথি দাখিল করা বাকি আছে তা আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে জমা করতে এদিনের শুনানিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এদিনের শুনানিতে মামলার তিন পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এতটাই চরমে ওঠে যে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি পরিস্কার জানিয়ে দেন, এই মামলার সঙ্গে ধর্মের কোনও যোগ নেই। পুরো মামলাটাই জমি বিতর্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। ১৪ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।












Click it and Unblock the Notifications