অযোধ্যা রায়ের আগেই গাজিয়াবাদে জারি ১৪৪ ধারা, শান্তি বজায় রাখার আবেদন প্রশাসনের
অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে যাতে কোনও অশান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তার জন্য শুক্রবার থেকে গাজিয়াবাদে ১৪৪ ধারা জারি করে দেওয়া হয়েছে। ১৭ নভেম্বরের আগে এই মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। গাজিয়াবাদের জেলা শাসক অজয় শঙ্কর পাণ্ডে হিন্দু এবং মুসলিম উভয় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে শুক্রবার দেখা করে তাঁদের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আবেদন করেন। তিনি গাজিয়াবাদের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে জানান যে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মেনে চলতে হবে নাগরিকদের এবং কোনও ধরনের চাঞ্চল্যকর গুজবে যেন তাঁরা কান না দেয়।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি–বাবরি মসজিদের বিতর্কিত মামলার শুনানি চলে। সেই মামলার রায় ঘোষণা হবে ১৭ নভেম্বর। তার আগে থেকেই অযোধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এর আগেই এই রায়কে ঘিরে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে খবর রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।
তাই অযোধ্যা, মথুরা, বারাণসী সহ উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু শহরে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অযোধ্যা, বারাণসী ও মথুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ স্টেশন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে চলছে নজরদারি।
শীর্ষ গোয়েন্দাদের রিপোর্টে পাওয়া গিয়েছে, জঙ্গিরা লনেপাল বা বাংলাদেশ হয়ে উত্তরপ্রদেশে প্রবেশ করতে পারে। তাদের নিশানায় রয়েছে রাজ্যের জনবহুল এলাকা, ট্রেন এবং বাস। যেখানে হামলা করলে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে আত্মঘাতী হামলা হতে পারে। জেলা শাসক নির্দেশ দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর এবং যে কোনও ধরনের মোটা অর্থপ্রাপ্তি হয়েছে এমন ব্যক্তির ওপর নজরদারি চালানোর। সম্প্রতি লখনউতে হিন্দু সমাজ পার্টির নেতা কমলেশ তিওয়ারি খুনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অযোধ্যা রায়কে ঘিরে পুলিশ–প্রশাসনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজ্যে যাতে শান্তি বজায় থাকে তা দেখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তাই গোটা রাজ্য জুড়ে আঁটোসাটো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications