উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে তুষারধস, রাস্তা নির্মাণের সময় বরফের নীচে চাপা পড়লেন ৫৭ জন শ্রমিক!
তুষার শুভ্র উত্তরাখণ্ডে বিপদের ঘণ্টা বাজল এবার। চামোলিতে নামল তুষারধস! শুক্রবার উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় আচমকায় নামে তুষারধস। যা জানা যাচ্ছে, সেই তুষারধসে কমপক্ষে ৫৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তুষারধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তাও বন্ধ রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মানা গ্রামের কাছে। যেখানে সীমান্ত সড়ক সংস্থার (বিআরও) ক্যাম্পের কাছে তুষারধস নামে। আটকে পড়াদের সবাই নির্মাণ শ্রমিক বলে জানা যাচ্ছে, যারা রাস্তা নির্মাণকাজে নিযুক্ত ছিলেন।

চামোলির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ তিওয়ারি নিশ্চিত করেছেন যে ৫৭ জন তুষারের নিচে আটকা পড়েছেন। ইতিমধ্যেই ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) ও সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে। তবে তুষারধসের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ) ও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)-এর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে তারা।
পুলিশের মুখপাত্র নীলেশ ভার্নে এই প্রসঙ্গে জানান, "মানা সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশাল তুষারধস নেমেছে। এতে বিআরও ক্যাম্পের কাছে রাস্তা নির্মাণে নিযুক্ত ৫৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েন। এদের মধ্যে ১০ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি"।
বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)-এর কমান্ডার কর্নেল অঙ্কুর মহাজন জানান, আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, "আমরা সকাল ৮টার দিকে খবর পাই যে মানা এলাকায় তুষারধস হয়েছে। কিছু শ্রমিক আটকা পড়েছেন। এখন পর্যন্ত ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তাদের আঘাতের মাত্রা কতটা গুরুতর, তা এখনও নিশ্চিত নয়"।
এছাড়া, দুর্গম এলাকার কারণে মোবাইল ও রেডিও সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যা উদ্ধার অভিযানে আরও জটিলতা সৃষ্টি করছে। তুষারধসের কারণে এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আরও আপডেট শীঘ্রই দেওয়া হবে। তবে আপাতত, শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার করাটায় সকলের লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications