Attack on Hindu Festivals: বেছে বেছে হিন্দুদের উৎসবেই হামলা! মহাকুম্ভের মাঝেই ভয়ঙ্কর প্রবণতার পর্দাফাঁস
Attack on Hindu Festivals: শতবর্ষ ধরে উদযাপিত হয়ে আসা নানান হিন্দু উৎসব ভারতীয় সংস্কৃতির (Indian Culture) অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই কিনা ব্যাঘাত ঘটানোর মরিয়া প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে সাম্প্রতিককালে। তাঁর জ্বলন্ত উদাহরণই গত ১২ জানুয়ারির ঘটনা।
প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে (Maha kumbh) যোগ দিতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের (Devotees) তাপ্তি গঙ্গা এক্সপ্রেসে (Tapti Ganga Express) পাথর ছোড়া (Stone Pelting) হয় নির্বিচারে। মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ের কাছে ওই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল, বেছে বেছে হিন্দুদের উৎসবে আঘাত হানার চেষ্টা ও ধর্মীয় অসন্তোষ কতটা বেড়ে গিয়েছে।

তাপ্তি গঙ্গা এক্সপ্রেসে হামলার ঘটনা কতটা ভয়ানক ছিল তা যাত্রীদের মুখ থেকেই শোনা গিয়েছে। ভাইরাল একাধিক সব ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় জমায়েতে যোগ দিতে যাওয়া হিন্দু পুণ্যার্থীরা ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রেলমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তার আর্জি পর্যন্ত করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।
একজন যাত্রীকে বলতেও শোনা যায়, "মহাকুম্ভে অমৃত স্নানে যোগ দিতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের জন্য এটিই প্রথম ট্রেন ছিল। আর সেই ট্রেনকেই টার্গেট করা পাথর বৃষ্টি করা হয়েছে। জানলার কাঁচ যদি খোলা থাকত, তাহলে আরও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।" অবিলম্বে নিরাপত্তার দাবি জানান যাত্রীরা।
Multiple coaches were attacked.. Passengers are claiming that it was a targeted attack because the train was going to Mahakumbh.. https://t.co/FEMTBkOqL6 pic.twitter.com/Zqe6Mavi7x
— Mr Sinha (@MrSinha_) January 12, 2025
তবে এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ২০২৪ সালেও অযোধ্যাগামী ট্রেনের উপর এধরনের হামলা চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া ট্রেনগুলিতেও হামলা দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিককালে। রেললাইনের ধারে বেআইনিভাবে দখল করে বসতি গড়ে উঠেছে যে সমস্ত স্থানে, সেখানেই লক্ষ্য করা গিয়েছে এহেন ইট পাথর ছোড়ার ঘটনা।
মহাকুম্ভের পুণ্যার্থীদের ট্রেনে হামলার ঘটনা উসকে দিয়েছে ২০০২ সালের গোধরাকাণ্ড। অযোধ্যা ফেরত ৫৯ জন করসেবক ফিরছিলেন যে ট্রেনে, সেই কামরা আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, রামনবমী, হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও বিসর্জনে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সৃষ্টি করার মতো ঘটনা উঠে এসেছে এই কয়েক বছরেই।
হরিয়ানার নুহতে ব্রিজমন্ডল যাত্রায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনাও রয়েছে তাতে। গত ২০২৪ সালের অক্টোবরেই উত্তরপ্রদেশে বাহরিখে হিন্দুদের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করায় ২২ বছরের এক তরুণকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। চরম নির্যাতনের পর তাঁকে খুন করে অভিযুক্তরা। হিন্দুদের উৎসবে ব্যাঘাত ঘটানোর এই প্রবণতা সাম্প্রতিককালে আরও বেড়ে গিয়েছে।
তবে এধরনের ঘটনায় সন্দেহাতীতভাবে প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়েও। হিন্দুদের উৎসবের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে একাধিক রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমনই এক সিদ্ধান্ত ছিল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। মহরমের শোভাযাত্রা থাকায় দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল সেবারে।
তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হলেও এবং তাদের স্থান-কাল-পাত্র ভিন্ন থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে এহেন ঘটনা। বিশেষ করে রেললাইনের ধারে বেদখল করে বসবাসের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনেরই বেশি আধিপত্য লক্ষ্য করা গিয়েছে সেসব স্থানে। সমাজবিরোধীদের আস্তানা হয়ে উঠেছে এই সব অঞ্চল। যার জেরে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা বাড়ছে দিনে দিনে।
বেদখল হঠাতে তাই অবিলম্বে প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা। মহাকুম্ভের যাত্রীদের উপরে হামলাও ভারতীয় সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করার ছক। এই হামলার ঘটনাগুলি নেহাতই শুধু অপরাধ নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে ভাঙার প্রয়াস ও সামাজিক সৌহার্দ্যকে বিঘ্নিত করার প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। সর্বোপরি, বিশ্ব মঞ্চে ভারতকে খাটো করার প্রচেষ্টার বৃহৎ ষড়যন্ত্র এই ঘটনা।












Click it and Unblock the Notifications