হিজাব সিদ্ধান্তে অনড়, কর্নাটক পড়ুয়ার ভাইয়ের ওপর হামলা, অভিযোগ হিন্দু সংগঠনের বিরুদ্ধে

হিজাব সিদ্ধান্তে অনড়, কর্নাটক পড়ুয়ার ভাইয়ের ওপর হামলা, অভিযোগ হিন্দু সংগঠনের বিরুদ্ধে

কর্নাটকের হিজাব বিতর্ক যতই দিন যাচ্ছে ততই তা হিংসাত্মক ঘটনায় পরিণত হতে চলেছে। কর্নাটকের উডুপি জেলার এক পড়ুয়া তথা হিজাব নিষিদ্ধ মামলার অন্যতম আবেদনকারী হাজরা শিফা অভিযোগ করেছেন যে তিনি হিজাব পরে থাকবেন নিজের এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকার জন্য তাঁর ভাইয়ের ওপর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দলের লোকেরা হামলা চালিয়েছে। প্রসঙ্গত, কর্নাটক হাইকোর্টে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ নিয়ে মামলা চলছে। যার শুনানি র‌য়েছে মঙ্গলবারও।

হিজাব পরা নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে হিংসা

হিজাব পরা নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে হিংসা

হাজরা শিফার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর ভাই সইফের ওপর উদুপি জেলার বন্দর এলাকার মালপেতে বিসমিল্লা হোটেলে সোমবার রাত ৯টা নাগাদ হামলা হয়। হাজরা সোমবার মধ্যরাতে উদুপি পুলিশকে ট্যাগ করে টুইট করে লেখেন, '‌আমার ভাইয়ের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে কিছুজন। শুধু আমি আমার হিজাবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছি বলে, যেটা আমার অধিকার। আমাদের সম্পত্তি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। কেন?‌ আমি আমার অধিকারের দাবি চাইতে পারি না?‌ এরপর তারা কার ওপর হামলা চালাবে?‌ আমি সংঘ পরিবারের গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করছি।'‌ মালপে পুলিশ থানার এক আধিকারিক বলেছেন, '‌এই হামলার পেছনে ২০-৩০ জন ব্যক্তি থাকতে পারে। আর এদের মধ্যে অধিকাংশকে আক্রান্ত (‌সইফ)‌ চিনতেন এবং তারা আক্রান্তের বন্ধু। সইফের বাবার বিসমিল্লা হোটেলে এই অভিযুক্তরা মাঝে মাঝেই যেত।'‌

 কেন হামলা করা হয় সইফের ওপর

কেন হামলা করা হয় সইফের ওপর

ওই পুলিশ আধিকারিক আরও বলেন, '‌এই হিংসাত্মক ঘটনার আগে সইফের বাবা হিজাব কাণ্ডের বিতর্ক ও গেরুয়া চাদর যাঁরা পরছে এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান এক স্থানীয় কন্নড় চ্যানেলে। তাঁর বিবৃতি এবং তাঁর শব্দ বলার ধরন, ওই সংগঠনের কর্মীদের উত্তপ্ত করে তোলে এবং তারা হোটেলে পৌঁছে সইফের ওপর ইঁট ছুঁড়তে থাকে। এরপর সইফকে চড় মারা হয় ও মারধর করা হয়। ওই যুবকরা কেউই সুস্থ অবস্থায় ছিল না, তার প্রত্যেকে মদ্যপ ছিল।'‌ পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর মামলা দায়ের করেছে।

 গত ডিসেম্বর থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

গত ডিসেম্বর থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

হিজাব (‌হেডস্কার্ফ)‌ নিয়ে কর্নাটকে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে গত বছরের শেষের দিকে। সেই সময় স্কুল পড়ুয়াদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই হিজাব পরা নিয়ে প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু হয় রাজ্য জুড়ে। এর পাশাপাশি গেরুয়া শিবিরের লোকজনও পাল্টা প্রতিবাদে সামিল হয়। হিজাব বিতর্কের এই রেশ কর্নাটক ছেড়ে এখন অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে চলা উত্তেজনাকে শান্ত করতে কর্নাটক সরকার সাময়িককালের জন্য রাজ্যের স্কুল বন্ধ রাখার পর তা আস্তে আস্তে খোলা শুরু করেছে।

 হাইকোর্টের নির্দেশ

হাইকোর্টের নির্দেশ

কর্নাটক হাইকোর্ট যদিও তার অন্তর্বতী আদেশে জানিয়েছে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব, গেরুয়া চাদর সহ কোনও ধর্মীয় পোশাক পরা যাবে না। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার ক্লাসরুমে হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার পক্ষ নিয়ে হাইকোর্টকে জানিয়েছে যে ইসলামে হিজাব পরা কোনও অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয় এবং এটি প্রতিরোধ করা মানে ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা লঙ্ঘন করে না।

প্রতীকী ছবি

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+