পাকিস্তানের ISI এজেন্টদের তথ্য পাঠাচ্ছিল! কীভাবে মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসের অফিসার পড়ল জালে
গত চার ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশের মিরাট থেকে আইএসআই চর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে সত্যেন্দ্র সিওয়াল নামে এক ব্যক্তিকে। উত্তর প্রদেশের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসে কর্মরত ছিল। শান্ত স্বভাবের সত্যেন্দ্র সিওয়ালের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ শুনে খানিক অবাকই হয়েছেন তাঁর গ্রামবাসীরা। এই ঘটনার পরে তার পরিবার গ্রাম ছেড়েছে।
আপাতত সাতই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকা সত্যেন্দ্র সিওয়াল বিদেশমন্ত্রকে মাল্টি টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর পোস্টিং ছিল মস্কোতে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার। কিন্তু কীভাবে সত্যেন্দ্র সিওয়াল আইএসআই-এর সংস্পর্শে এলেন, তিনি কতদিন ধরে পাকিস্তানের তথ্য পাঠাচ্ছিলেন, তা একবার দেখে নেওয়া যাক।

২০২১ সাল থেকে সত্যেন্দ্র মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসে নিরাপত্তা সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। উত্তর প্রদেশের এটিএস সূত্র মারফত খবর পায়, আইএসআই বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিকদের মধুচক্রের ফাঁদে ফেলছে। চর বৃত্তির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রলোভন দিচ্ছে। তারপরেই তদন্ত শুরু করে এটিএস। তখন তারা দেখে দিল্লি থেকে প্রায় চারহাজার তিনশো ছাব্বিশ কিমি দূরে বসে সত্যেন্দ্র পিক্সাতনের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং এর বিনিময়ে তার অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হয়েছে।
গত কয়েকমাস ধরে সত্যেন্দ্র সিওয়াল উত্তর প্রদেশের এটিএস এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারিতে ছিল। তিন ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশের এটিএস মিরাটে যায়। প্রশ্নের তালিকা তৈরি করে হাপুর থেকে মিরাটে ডাকা হয় সত্যেন্দ্রকে। একের পর এক প্রশ্ন করা হয় তাকে।
সত্যেন্দ্র সিওয়ালকে করা প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে, কীভাবে আইএসআই-এর সংস্পর্শে এল সে। কত দিন ধরে আইএসআই-এর হয়ে কাজ? এখনও পর্যন্ত কোন কোন তথ্য আইএসআইকে দিয়েছে? ? যে মহিলার ফাঁদে পড়ে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, তার পরিচয় কী? মস্কো ছাড়া আর কোন কোন দেশে তার কত বন্ধু রয়েছে?
জিজ্ঞাসাবাদে সত্যেন্দ্র তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। আইএসআই-এর জন্য চর বৃত্তির কথাও সে স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু কীভাবে আইএসআই-এর জালে পড়ল সত্যেন্দ্র সিওয়াল? জানা গিয়েছে, মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিল সে। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়াতেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট পূজার সঙ্গে পরিচয়। পূজা ছিল আইএসআই-এর হ্যানিট্র্যাপের অন্যতম মাথা। ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে সত্যেন্দ্রর সঙ্গে চ্যাট শুরু।
হোয়াটসঅ্যাপ কলে তারা কথা বলা শুরু করে। পূজা ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছিল। সে জানিয়েছিল, ভারত নিয়ে গবেষণা করছে। তারপরেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনেক তথ্য সত্যেন্দ্র তুলে দেয় পূজার হাতে।
সত্যেন্দ্র সিওয়াল আদতে উত্তর প্রদেশের হাপুরের বাসিন্দা। দেহাত থানা এলাকার শ্যামনগরে বাড়ি। সত্যেন্দ্রর আত্মীয়রা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, খুব ভাল ছেলে, গ্রামের কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল না। গত ২৮ জানুয়ারি পরিবারের এক সদস্যের বিয়েতে এসেছিল।












Click it and Unblock the Notifications