বর্ষার শুরুতেই পাঁচ রাজ্যে বন্যা! ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি উত্তরাখণ্ড ও অসমে
জুন মাস পর্যন্ত বর্ষার অপেক্ষায় ছিলেন দেশবাসী। আর জুলাই পড়তে না পড়তেই ধ্বংস যজ্ঞ শুরু করে দিয়েছে বর্ষা। এই মুহূর্তে সারা দেশে পাঁচ রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে। এই পাঁচ রাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ, বিহার, উত্তরাখণ্ড, অসম, মহারাষ্ট্র। এছাড়া বাংলায় অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
বর্ষার শুরু হতে না হতেই উত্তরাখণ্ডে ধ্বংসষজ্ঞ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানকার সব নদীতেই জলস্ফীতি। অনেক জায়গাতেই পাহাড়ে ধসের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক রাজ্যগুলির পরিস্থিতি।

উত্তরাখণ্ড
রাস্তার জলে ভেসে চলেছে বাইক থেকে অন্য যানবাহন। ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন পাবাড়ি এই রাজ্য। দুদিনে বৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর ছবি রানিক্ষেত, আলমোড়া, কর্ণপ্রয়াগের। সংযোগকারী সেতুগুলি ভেসে গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী।
অলকানন্দা, মন্দকিনী, কালী ও গঙ্গা-সহ সব নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঋষিকেশে গঙ্গার জলসীমা বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে কালী ও অলকানন্দার জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এনডিআরএফ আবং এসডিআরএফ মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সাময়িক বন্ধ চারধাম যাত্রা
বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে উত্তরাখণ্ডে চার ধাম যাত্রা সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর আগে ৭ ও ৮ জুলাই প্রবল বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছিল। তারপরেই বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ে ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। কর্ণপ্রয়াগে তেলেঙ্গানার দুই তীর্যযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
অসম
বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি অসমে। এথনও পর্যন্ত রাজ্যে ২৯ টি জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। ব্রহ্মপুত্র-সহ রাজ্যে অন্য নদ নদীর জল বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে। বন্যার কবলে রাজ্যের প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ। বন্যার কারণে অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত।
মুম্বই
মুম্বইয়ের প্রায় সব জায়গাতেই জল। সব থেকে খারাপ অবস্থা থানেতে। পুরো শহর জলবন্দী। রাস্তা, ট্রেন লাইন সহ একাধিক জায়গা জলে ডুবে গিয়েছে। বহু জায়গায় রেল লাইনে জল জমে গিয়েছে। ফলে ব্যাহত মুম্বই'য়ের রেল পরিষেবাও। এই অবস্থায় মুম্বইয়ের একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তরফে ৮ জুলাই থেকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত মধ্য মহারাষ্ট্র এবং মারাঠওয়াড়ায় মুষলধারে বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
উত্তর প্রদেশ-বিহার
উত্তর প্রদেশের অনেক নদীর জলই বিপদ সীমার কাছ দিয়ে বইছে। কোথাও কোথাও বন্যার মতো পরিস্থিতি। টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ললিতপুর, লখিমপুর খেরি-সহ বিভিন্ন জেলা। বিহারে কোশী নদীর জল বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে। বিভিন্ন ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার ফলে নদীগুলির জলস্তর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় বিপদ বাড়ছে।
মধ্যপ্রদেশেও বেশ কিছু জায়গায় প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কাটনি জেলায় বন্ধ স্কুল।












Click it and Unblock the Notifications