কৃষি আইন প্রত্যাহারের পরবর্তী ধাপ কী হওয়া উচিৎ? কী বলছেন অ্য়াসোচেম কর্তা
দীর্ঘ লড়াইয়ের কাছে নতি স্বীকার। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন তুলে নিল মোদী সরকার। গুরু নানক দেবের জন্মদিনের দিনকেই বেছে নিলেন এহেন ঘোষণার জন্যে। যদিও এর পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কারণ। বিরোধীদের দাবি, পঞ্জা
দীর্ঘ লড়াইয়ের কাছে নতি স্বীকার। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন তুলে নিল মোদী সরকার। গুরু নানক দেবের জন্মদিনের দিনকেই বেছে নিলেন এহেন ঘোষণার জন্যে। যদিও এর পিছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কারণ। বিরোধীদের দাবি, পঞ্জাব সহ একাধিক রাজ্যের ভোটের দিকে তাকিয়ে এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরেও কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিল কৃষক স্বার্থের কথা ভেবেই নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সেই বার্তা সঠিক ভাবে পৌঁছয়নি তাঁদের কাছে। তবে ভালো-মন্দ যাই থাকুন না কেন এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই আনন্দে মেতে ওঠেন আন্দোলনরত কৃষকরা।
গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের কণ্ঠস্বর অন্তত গুরুত্বপূর্ণ। আর তা সরকারের পক্ষেই হোক কিংবা বিপক্ষে। আর যে কোনও দেশের জন্যে কৃষক ক্ষেত্রে ইতিবাচক বদল আনাটা খুবই জরুরি। শেষবার কৃষক এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা হয় গত ২২ জানুয়ারি। তার পরেও পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই এগিয়েছে। কৃষক আন্দোলনে কোনও ইতিবাচক দিক দেখা যায়নি।
আর এই কথা অস্বীকার করা যায় না যে কৃষির ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল কৃষকরাই। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী বিতর্কিত এই আইন প-রত্যাহার করা হল। এবার এমএসপি সহ কৃষি আইন আনতে হবে সরকারকেই। এমনটাই মত অ্যাসোচেমের অন্যতম চেয়ারম্যানের।
তাঁর মতে কৃষি আইন প্রত্যাহারের পর সরকারের পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিৎ এমন একটা আইন আনা যেখানে নুন্যতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা হবে কৃষকদের জন্যে। কৃষকদেরও সমাধানের দিকে নজর দিতে হবে। নুন্যতম সহায়ক মূল্য একটা বড় অংশের কৃষকদের জন্যে জীবন-মরনের প্রশ্ন। যেসব ছোট মাঝারি কৃষক রয়েছেন তাঁদের জন্যে এই বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সমস্ত কৃষকদের ৮৬ শতাংশ সেই শ্রেণিতে পরেন। এই সব কৃষকদের রাজনীতির কারবারিরা তাস হিসাবে ব্যবহার করছে। এমনটাই মত তাঁর। তিনি লিখছেন, অনেক রাজনীতিক আজ কৃষক আন্দোলনে সমর্থন করছেন কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কৃষকদের ক্ষমতায়ন করতে পারেনি।
১৯৬০-এর ফুড ক্রাইসিসের কথা কেউ ভোলেনি। সেই সময় লক্ষাধিক মানুষের মৃতু হয় শুধুমাত্র খাবারের জন্যে। পরে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশে চাল-গম উতপন্ন করে সবুজ বিপ্লব নিয়ে আসেন কৃষকেরা। অথচ সেই সমস্ত এলাকার কৃষকরাই আজ ঋণগ্রস্ত। আর তাই কৃষকদের নুন্যতম সহায়ক মূল্যের গ্যারিন্টি যদি দিতে পারে সরকার তবেই তাঁরা সত্যিকারের আজাদিকা অমৃত মহোৎসব পালন করবে। এমনটাই মত অ্যাসোচেম কর্তার।
এক সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন ওই কর্তা। সেখানে তিনি আরও লিখছেন, এই মুহূর্তে কৃষকদের আরও একটা বড় সমস্যা হল ফসলের দাম না পাওয়া। প্রত্যেক বছর ২৩টি শষ্যের জন্যে এমএসপি ঘোষণা করে কেন্দ্রিয় সরকার। কিন্তু কোনও গযারেন্টি থাকে না তাতে। এক এক সময়ে কৃষকরা ফসলের যা দাম পায় তাতে তাঁদের বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিবহণের খরচটুকুও ওঠে না। একটা রিপোর্ট বলছে, ২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। আর তা হয়েছে গোটা দেশে, দাবি কর্তার। তিনি জানাচ্ছেন, দেশজুড়ে ১০০ এরও বেশি ধরনের শষ্য উৎপন্ন হয়। অথচ এমএসপি দেওয়া হয় মাত্র ২৩টিতে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন আইন এনে বলেছিলেন ২০২২ এর মধ্যে কৃষকদের আইন দ্বিগুণ হবে। কৃষকদেরও জানানো উচিৎ যে আইন দ্বিগুণ করার জন্যে সরকার কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে। আর কি কি করা যেতে পারে সেই পরামর্শও কৃষকদের দেওয়া উচিৎ বলেও দাবি অ্যাসোচেম চেয়ারম্যানের।












Click it and Unblock the Notifications