কমেডিয়ান ভগবন্ত হবেন মুখ্যমন্ত্রী! বিধানসভা ভোট মিলিয়ে দিল ইউক্রেন-পাঞ্জাবকে
কমেডিয়ান ভগবন্ত হবেন মুখ্যমন্ত্রী! বিধানসভা ভোট মিলিয়ে দিল ইউক্রেন-পাঞ্জাবকে
আচ্ছা বলতে পারবেন পাঞ্জাবের সঙ্গে ইউক্রেনের মিল কোথায়? অবাক হচ্ছেন তো। ভাবছেন ইউক্রেনে চলছে রাশিয়ার হামলা আর পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে আম আদমি পার্টি। এই দুইয়ের মধ্যে আবার মিল কোথায়? আসলে 'কমেডিয়ান’ এই শব্দটি ইউক্রেন ও পাঞ্জাবকে এক ছাতার তলায় এসে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কমেডিয়ান তথা রাজনৈতিকবিদ ভগবন্ত মান পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীত্ব লাভ করেছেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যে দুর্নীতি থেকে একরকম বীতশ্রদ্ধ হয়ে পাঞ্জাব এবার নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টও একসময়কার জনপ্রিয় কমেডিয়ান ভলোদিমির জেলেনস্কি। এখন প্রশ্ন উঠছে কমেডিয়ানকে বাছাই করে পাঞ্জাবও কি ইউক্রেনের রাস্তায় হাঁটল? আসুন এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক।

কমেডিয়ানের হাতে দেশের দায়িত্ব
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি, যিনি রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্যেও তিনি দেশের রাজধানীতে থাকবেন বলে তাঁর দৃঢ়তা ও সাহসীকতার জন্য বিশ্বব্যাপী হৃদয় জয় করে চলেছেন, তিনি আসলে একজন অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ। আপনাদের মনে করিয়ে দিই চার বছরের কিছু কম সময় যাবৎ জেলেনস্কি ইউক্রেনের অন্যতম টিভি কমেডিয়ান হিসাবে জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি ব্যাঙ্গাত্মক টিভি শো করতেন এবং একটি নাটকদলে তিনি তাঁর পুরুষাঙ্গ দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে পিয়ানো বাজিয়েছিলেন। জেলেনস্কি কমেডিয়ান, অভিনেতা ও প্রযোজক হিসাবেই খ্যাতি পান। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি জনপ্রিয় টিভি শো 'সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল'-এ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ২০১৮ সালে জেলেনস্কি তাঁর ভক্তদের হতচকিত করে দিয়ে ঘোষণা করেন যে তিনি রাজনীতিতে যেতে ইচ্ছুক এবং তাঁর জনপ্রিয় কথা হল, যা তিনি সেই সময় বলেছিলেন, 'প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য আপনার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। আপনাকে শুধু একজন ভদ্র মানুষ হতে হবে।' ২০১৯ সালে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে বসেন।

কেন টুইটার ব্যবহারকারীরা ইউক্রেন ও পাঞ্জাবের মধ্যে তুলনা করছেন
পাঞ্জাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সাত দশকের শাসনকে ধূলিসাৎ করে আম আদমি পার্টি জয় পেয়েছে এবং ভগবন্ত মান গড়তে চলেছেন ইতিহাস। গত ১৯ জানুয়ারি আপের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয় ভগবন্ত মানের, কিন্তু নির্বাচনের ঠিক একমাস আগেই ফোন-ইন-পোল দাবি করে যে ২১ কোটি ৫০ লক্ষ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে এবং ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন মান। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণার আগেই মান পাঞ্জাবের ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম ছিলেন। রাজনীতিতে আসার আগে জেলেনস্কির মতোই মানও যুব কমেডি উৎসব ও আর্ন্ত-কলেজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তিনি সুনামের শহীদ উধম সিং সরকারি কলেজের জন্য পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, পাতিয়ালায় একটি প্রতিযোগিতায় দুটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। ভগবন্ত নিজের কৌতুকরসকে রাজনীতি, ব্যবসা ও ক্রীড়ার মতো সাধারণ ভারতীয় সমস্যা নিয়ে তৈরি করতেন। তাঁর প্রথম কমেডি অ্যালবাম যগতার জগ্গি। পাঞ্জাবি ভাষায় একের পর এক কমেডি শো করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তিনি কমেডিয়ান হয়ে উঠে আসার সময় ক্যাসেটের রমরমা তখনও মুছে যায়নি। পাঞ্জাবের মাঠে ট্রাক্টরে কান পাতলেও শোনা যেত মানের কমেডি বাজছে। পাঞ্জাবিদের নিজের ভাষায় কৌতুকের আকারে রাজনীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় পৌঁছে দিতেন তিনি। রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে মজার কথা বলতেন তিনি। আজও পাঞ্জাবের বহু মানুষের মুখে হাসি ফোটে তাঁর নাম শুনলেই। ২০০৬ সালে মান এবং জগ্গি একসঙ্গে কানাডা ও ইংল্যান্ডে শো করতে যান। ২০০৮ সালে মান স্টার প্লাসে গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জে অংশ নেন, যেখান থেকে তাঁর ভক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ইউক্রেন–পাঞ্জাব এক রেখায়
আর এখানেই ইউক্রেন ও পাঞ্জাব এক সীমারেখায় দাঁড়িয়ে। কারণ এক দেশের পরিচালনার রাশ কমেডিয়ানের হাতে আর ভারতের এক রাজ্য শাসন করতে চলেছেন অন্য এক কমেডিয়ান। মিল রয়েছে আসলে এখানেই।

পাঞ্জাবে সাত দশকের ইতিহাস বদলালো আপ
প্রসঙ্গত, এই সপ্তাহের গোড়াতে এক্সিট পোলের সমীক্ষায় স্পষ্ট উঠে আসে ৯০টি আসনের মধ্যে ৭০টি আসনে জিতবে আপ। পাঞ্জাবে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় নির্বাচন হয়। আপের জন্য এই নির্বাচন সহজ ছিল না। কারণ একদিকে ছিল শাসক দল কংগ্রেস, যাদের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী চরণজিৎ সিং চান্নি, অপরদিকে ছিল শিরোমণি অকালি দল-বহুজন সমাজ পার্টির জোট, আবার বিজেপি ও ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) অমরিন্দর সিংয়ের লোক কংগ্রেস পার্টি। এদের সকলের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল দিল্লির আম আদমি পার্টিকে। পাঞ্জাবে আপের যাত্রার সঙ্গে প্রথম থেকেই রয়েছেন ভগবন্ত মান। তাই দলের সবচেয়ে পুরোনো সদস্যের উপরই ভরসা রেখেছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিবাল। আর মানও আপের সম্মান রক্ষা করতে সফল হয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications