অসম-মিজোরাম সীমান্তে সংঘাতের বীজ কি পুঁতে দিয়েছিল ব্রিটিশ শাসনকাল! পরিস্থিতি একনজরে
'মিজোরামের দিক থেকে আসা গুলি যেন ছিল জালিওয়ালানাবাগে ব্রিটিশদের মতো', এই বার্তা ছিল অসমের মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্যর। অন্যদিকে মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি,' ২০০ জন পুলিশকে নিয়ে বাহিনী নিয়ে এসে মিজোরামের ভাইরেংটের অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে একটি মিজোরাম পুলিশ স্টেশনের দখল নিতে চায় অসম পুলিশ। ' দুই তরফে এই বার্তাগুলি থেকেই স্পষ্ট যে মিজোরাম-অসম সীমান্ত সংঘাত খুব একটা নতুন নয়।
মিজোরাম ও অসমের সংঘাতের নেপথ্যে কী?
ওয়াকিবহাল মহলের বার্তা, কয়েক দশক ধরে মিজোরাম ও অসমের মধ্যে সংঘাত চলছে। যে ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত এসম পুলিশের একাধিক কর্মী মারা যান। অসমের মুখ্যমন্ত্রী টুইটে সরাসরি ঘটনার জন্য মিজোরাম পুলিশের গুলি চালনাকে দায়ী করেন। ভারতের মধ্যে থাকা দুই রাজ্যের ভিতর সীমান্ত ইস্যু ঘিরে এই সংঘাতের নেপথ্যে কোন ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে দেখে নেওয়া যাক।

১৬৫ কিলোমিটারের হার্ট লাইন ও দুই রাজ্য
অসম মিজোরাম সীমান্তে দুই রাজ্য়ের ভিতর ১৬৫ কিলোমিটারের হার্টলাইন রয়েছে। ব্রিটিশ যুগ থেকই এঅ লাইন দুই রাজ্যের সীমান্তকে চিহ্নিত করে। আর এই হার্টলাইন মেনে নেওয়া নিয়েই রয়েছে সংঘাতের বীজ। উনবিংশ শতাব্দী থেকেই সমস্যার বীজ যেখানে বপন করে গিয়েছে ব্রিটিশ রাজ।

বরাক উপত্যকা ও মিজো সংঘাত
ব্রিটিশ যুগে চায়ের বাগান অসমের বরাক উপত্যকা জুড়ে ছিল। যে উপত্যকার মধ্যে কছর, হেইলাকান্ডি ও করিমগঞ্জ অবস্থিত। উবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সম. থেকে অই চা বাগানেরপরিসর বাড়তেই মিজোরে সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়। যাঁদের বসবাস ছিল লুসি পাহাড়। ফলে এলাকা দখলে রাখার সংঘাত কার্যত তখন থেকেই।

সংঘাত শুরু কবে থেকে?
একদিকে মিজোদের লুসি পার্বত্য এলাকা , অন্যদিকে কছরের উপত্যকা, এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক গড়ে দিতে ১৮৭৫ সালে কছর ডেলার দক্ষিণে সীমান্ত রেখা তৈরি হয়। সেই সময় তা মিজো প্রধানদের নিয়ে আলোচনায় বসে তৈরি হয়। পরবর্তীকালে ১৯৩৩ সালে ফের সীমান্ত রেখা টানা হয়। যা মেনে নিচে পারেনি মিজোরা। এরবহুদিন পর ২০১৮ সালে বিতর্কিত সীমান্তের জমিতে চাষিদের জন্য মিজোরামের ছাত্র ইউনিয়ন একটি কাঠের বাড়ি তৈরি করে। যা অসম পুলিশ গুঁড়িয়ে দেয়। তারপর থেকেই সংঘাত শুরু।

মূল সমস্যা ও সংঘাত
বর্তমানে অসম ও মিজোরামের মাজে কছর ও হাইলাকান্ডি এলাকার মাঝের জমি নিয়ে বিবাদ। সেখানে জঙ্গদলের মধ্যে দুপক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর। এর আগে ১০ জুলাই এলাকায় অসম সরকারের টিম পরিদর্শনে এলে , সেখানে আইইডি ছোঁড়া হয়। যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।












Click it and Unblock the Notifications