অসমে ৩০,০০০ পদে কর্মী নিয়োগে পরীক্ষা, ২৪টি জেলায় সাময়িকভাবে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা
অসমে ৩০,০০০ পদে কর্মী নিয়োগে পরীক্ষা, ২৪টি জেলায় সাময়িকভাবে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা
অসমে সরকারি চাকরির পরীক্ষা অবাধ ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে ৩৫টি জেলার মধ্যে ২৪টি জেলাতে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে আরও দুই ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, অসম সরকারের নির্দেশেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগের তরফে একটি নির্দেশ জারি করা হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ভারতীয় টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট ১৮৮৫ এর ৫(২) ধারার টেম্পোরারি সাসপেনশন অফ টেলিকম সার্ভিস রুল ২০১৭ অনুসারে ২১ ও ২৮ অগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ভিত্তিক পরিষেবাগুলো ব্যাহত হবে না বলেও অসম প্রশাসনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
অসম সরকারের গ্রেড থ্রি ও গ্রেড ফোরের কর্মী নিয়োগের পরীক্ষা চলছে। ২১ অগস্টের পাশাপাশি ২৮ অগস্ট, সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ অসম জুড়ে ১৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। ৩০,০০০ শূন্যপদ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অসমের ২৪টি জেলার ডেপুটি কমিশনারদের সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।
বৈঠকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, 'এটা কোনও সাধারণ পরীক্ষা নয়, ৩০,০০০ শূন্যপদের জন্য পরীক্ষা হচ্ছে। আমারা যদি সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করতে পারি, সেক্ষেত্রে দেশের চেহারা বদলে যাবে।' তিনি পাশাপাশি বলেন, 'আমি জানি, এই সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ মানুষ অনেক অসুবিধার মধ্যে পড়বেন। তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অনেক সময়ই ইন্টারনেট পরিষেবা ঘণ্টা দুইয়ের জন্য ব্যহত হয়ে যায়।'
রবিবার যে জেলাগুলোতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে তারমধ্যে রাজধানী গুয়াহাটি ও কামরূপ রয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব নীরজ বর্মা নির্দেশ অনুসারে আগের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইউটিউবের সাহায্য নিয়েছিল। এগুলো সব কিছু ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করেই এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।
সেই কারণেই পরীক্ষার সময় জেলাগুলোয় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অসম সরকার তাই এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নিতে চায় না। যাতে যোগ্য ব্যক্তিরাই মেধাতালিকায় স্থান পান, সেই কারণেই এই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অসম সরকারের সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বোর্দোলোই। তিনি একটি আবেদনে অসম সরকারকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিলেন। তিনি বলেন, অসম সরকারের এই সিদ্ধান্তের জেরে জেলার মানুষের জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। জন নিরাপত্তায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অসম সরকার নিজেদের সিদ্ধান্তে স্থির রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications