অসম-মিজোরাম সংঘাতের নেপথ্যে কোন কারণ! কিছু ঘটনা পরম্পরা একনজরে
অসম-মিজোরাম সংঘাতের নেপথ্যে কোন কারণ! কিছু ঘটনা পরম্পরা একনজরে
একদিকে মিজোরামের আইজল, কোলাসিব, মামিত জেলা অন্যদিকে অসমের কছর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্ডি মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে হার্টলাইন। সীমান্ত ভাগ করে দিয়েছে অসম ও মিজোরামের। এই সীমান্তকে ঘিরেই সংঘাতে গতকাল থেকে উত্তপ্ত দুই রাজ্য। একনজরে কিছু ঘটনা পরম্পরার দিকে নজর রাখা যাক।

জুনের ৩০ তাারিখ কী ঘটে?
জুনের ৩০ তারিখ অসমের বিরুদ্ধে সীমান্তে মিজোরামের কোলাসিব এলাকার দখলের অভিযোগ তোলে মিজোরাম। এদিকে, অসমের অভিযোগ ছিল, এই এলকায় গাছ পুঁতে বাড়ি নির্মাণ করে এলাকার দখল নিতে চাইছে মিজোরাম। ভাইরেংটে থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অসম ও মিজোরামের সীমান্তে রয়েছে আইতলাং নার এলাকা। এই এলাকার দখল ঘিরেই সংঘাতর পারদ গত মাস থেকে চড়তে থাকে।

স্বপ্নসুন্দর জলাশয় ঘেরা জায়গা নিয়ে সংঘাত
আইতলাং নদী থেকে এসেথছে জলাশয় আইতলাং নার। এলাকা মিজোরামের বলে দাবি সেরাজ্যের। এদিকে, এলারকার অসমীয়া বিধায়ক এআইইউডিএফএর সুজামুদ্দিনের দাবি জোর করে এলাকা নিজের দখলে রেখেছে মিজোরাম। দোলচেরা এলাকার বহু গ্রাম জোর করে মিজোরাম নিজের দখলে রেখে দিয়েছে বলে অভিযোগ।

আলোচনা পর্ব
ব্রিটিশ আমল থেকে চলা এই এলাকার সংঘাত বহু দশকের।
পরিস্থিতি গত কয়েক দিনে বাড়তে থাকায় দুই রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে মিজোরামের অভিযোগ , আলোচনার পরও অসমের পুলিশ এলাকা ছাড়েনি। যে এলাকা মিজোরাম নিজের বলে দাবি করছে। এমনকি জায়গা খালি করার নামে সীমান্তে মিজোরামের বহু প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের জমি, বাড়ি অসমের পুলিশ নষ্ট করে দিয়েছে বলে অভিযোগ।

২০১৮ সাল থেকে নতুন করে সংঘাত
এদিকে, ১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ আমলে বেঙ্গল ইস্টারর্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন অ্যাক্টে মিজোরামের লুসি পার্বত্য এলাকা ও কথর উপত্যকাকে আলাদা করে ভাগ করে রাজ্যের সীমানা টানা হয়। সেই সিদ্ধান্তে মিজো নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছিল. পরবর্তীকালে ১৯৩৩ সালে যে ডিমার্কেশন লাইন টানা হয়েছে দুই রাজ্যের মধ্যে তাতে মিজো নেতারে মতামত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে সেই জিমারকেশন লাইন মানতে রাজি নয় মিজোরাম। সংঘাতের শুরু এখানেই। এরপর ২০১৮ সালে মিজো পড়ুয়াদের বানানো এলাকায় কাঠের বাড়ি অসম পুলিশ ভেঙে দিতেই উত্তেজনা চড়ে।

ঝরছে রক্ত, দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কোন অবস্থানে?
গতকাল অসম মিজোরাম সীমান্তে প্রবল পাথর বর্ষণ , গুলির লড়াই চলে। উত্তেজিত পরিস্থিতিতে দুই রাজ্যের সীমান্তে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে বেগ পায়। শহিদ হন অসমের ৫ জন পুলিশ কর্মী। এই পরিস্থিতিতে দুই রাজ্যকে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে, অসম ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীরা এখনও একে অপরের বিরুদ্ধেই দোষারোপের আঙুল তুলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে উত্তর পূর্ব ভারত ঘিরে চড়ছে দিল্লির রাজনীতির পারদ।












Click it and Unblock the Notifications