স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু হতেই ফের উত্তপ্ত মণিপুর, নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ কুকি বিক্ষোভকারীদের
গত ১ মার্চই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন যে ৮ মার্চ থেকে মানুষের অবাধ চলাচল শুরু হয়ে যাবে। বিধিনিষেধ খানিকটা থাকলেও, তা মানুষের চলাচলের জন্যে শিথিল করা হবে। সেই মোতাবেক আজ থেকে মণিপুরে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু হয়েছে। আর তার মাঝেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি।
মণিপুরে কুকি উপজাতিদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যেও আজ নিরাপত্তা বাহিনীর এসকর্টে বেসামরিক বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে কুকি সম্প্রদায় পৃথক প্রশাসনের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবাধ চলাচল করতে দিতে নারাজ। সেই আপত্তি থেকে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফল থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলায় কুকি উপজাতির সদস্যরা সড়ক অবরোধ করে এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

খনি-প্রতিরোধী যানবাহন বাধা ভেঙে এগিয়ে গেলেও প্রতিবাদকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে এবং রাস্তা খুঁড়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। কুকি উপজাতির বেশ কয়েকজন মহিলা যখন ন্যাশনাল হাইওয়ে অবরোধের চেষ্টা করছিলেন, তখন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উপর লাঠিচার্জ করলে অনেকেই আহত হন।
মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর পদত্যাগের পর, কেন্দ্র ঘোষণা করে যে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে রাজ্যের কোথাও কোনো রাস্তা অবরোধ করা যাবে না। তবুও কুকি-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে কুকি উপজাতি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। মূলত ভূমি অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবিকে কেন্দ্র করে এই লড়াই শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে এবং প্রায় ৫০,০০০ জন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
কুকি নেতা ও প্রায় দুই ডজন জঙ্গি গোষ্ঠী পৃথক প্রশাসনের দাবি তুলেছে। তারা সরকারের কাছে মণিপুর থেকে পৃথক একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল গঠনের দাবি জানাচ্ছে।
মেইতেই সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে কুকি উপজাতিরা বছরের পর বছর ধরে 'কুকিল্যান্ড' নামে পৃথক রাজ্যের জন্য কাজ করছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ত্রাণ শিবিরে থাকা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসন না করে কেন কুকিরা তাদের ফিরে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কুকি-জো সংগঠন ২০২৩ সালের সংঘর্ষের কারণ হিসেবে মেইতেই সম্প্রদায়ের ভূমিকা উল্লেখ করলেও, তারা পৃথক প্রশাসনের দাবি আরও জোরালো করেছে। মণিপুরের এই উত্তেজনার মাঝেই কেন্দ্র চায়ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক মণিপুরের বাসিন্দারা। তাই আজ থেকে শিথিল হয়েছিল বিধিনিষেধ। অথচ তার মধ্যেও চলল সংঘর্ষ।












Click it and Unblock the Notifications