সিধুর ছেড়ে যাওয়া পদে 'ক্যাপ্টেন'-পত্নীকে কি বসাতে চাইছে কংগ্রেস! অমরিন্দর -অমিত বৈঠকের পর তুঙ্গে জল্পনা
নভজ্যোত সিং সিধু সদ্য ইস্তফা দিয়েছেন পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধানের পদ থেকে। এদিকে, তাঁর হাতেই ২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসবা নির্বাচনের ব্যাটন রয়েছে বলে আগেই মন্তব্য করে কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দেন হরিশ রাওয়াত। এ
নভজ্যোত সিং সিধু সদ্য ইস্তফা দিয়েছেন পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধানের পদ থেকে। এদিকে, তাঁর হাতেই ২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসবা নির্বাচনের ব্যাটন রয়েছে বলে আগেই মন্তব্য করে কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দেন হরিশ রাওয়াত। এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে অমরিন্দর সিং কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছিলেন, সিধুর বিরুদ্ধে তিনি এমন একজনকে প্রার্থী দেবেন, যিনি সিধুর হার নিশ্চিত করবেন। এমন অবস্থায় অমরিন্দর সিং ও অমিত শাহের হাইভোল্টেজ বৈঠক দিল্লিতে হতেই, শোনা যাচ্ছে, অমরিন্দর সিংয়ের স্ত্রী পরণীত কৌরকে সম্ভবত সিধুর ছেড়ে যাওয়া পদে বসাতে চাইছে কংগ্রেস।

সিধু-বিপর্যয় ও কংগ্রেস
২০২২ সালে পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের কংগ্রেসকে সিধু নেতৃত্ব দেবেন বলে হরিশ রাওয়াত মন্তব্য করতেই পঞ্জাব কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা সুনীল জাখর তার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন। আর সিধু যে বেশিদিন পঞ্জাবের কংগ্রেস প্রধানের দাায়িত্বে থাকতে পারবেন না, তাও বহু আগেই ভবিষ্যদ্বণী করেছিলেন জাখর। এই অবস্থায় কার্যত প্রবল অশান্তির মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। পঞ্জাবে কংগ্রেসের প্রধানের পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ছয় সপ্তাহের মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন নভজ্যোত সিং সিধু। যা কার্যত ২০২২ নির্বাচনের আগে কংগ্রেস কর্মীদের মনোবলকে বেশ ধাক্কা দিয়েছে। এই জায়গা থেকে কংগ্রেসকে তুলে ধরতে আপাতত দিল্লিতে বসে নানা ঘুঁটি সাজিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় সোনিয়া, রাহুলরা।

অমরিন্দর পত্নীকে নয়া দায়িত্ব !
এদিকে, পঞ্জাবে প্রবল সংঘাতের আবহের মধ্যে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং যখন গতকাল দিল্লিতে বিজেপির চাণক্য অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক , করেন তখনই কংগ্রেসের মধ্যে দোলাচলের মাত্রা বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান পদে অমরিন্দর সিংয়ের স্ত্রী পরণীত কৌরকে বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছে কংগ্রেস বলে জানা গিয়েছে। তবে এবিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই দিল্লি সফরে রয়েছেন অমরিন্দর সিং। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ কার্যত ধোঁয়াশায় রেখেছে কংগ্রেসকে। অমরিন্দ গতকালই অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর এদিন জাতীয় উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে হয়। আর তারপর থেকেই জল্পনার মাত্রা আরও বেড়েছে।

অমিত-অমরিন্দর বৈঠক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে পঞ্জাবের কৃষকদের সম্পর্কে বহু আলোচনা অমরিন্দর করেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও, তিনটি কৃষি আইন যাতে তুলে নেওয়া হয়,তারও বার্তা অমরিন্দর সিং দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই জায়গা থেকে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে যে, তাহলে কি অমরিন্দর কংগ্রেসের প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে এবার বিজেপিতে যোগ দেবেন? আর ঠিক এই পরিস্থিতি থেকে তাঁর স্ত্রীকে পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান হিসাবে বিবেচনা করার বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস হাই কমান্ড বড় দান দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে যে হাওয়া চলছে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে তার অভিমুখ অবশ্যই ২০২২ নির্বাচন। এর আগে বিজেপির হাত ছেড়ে বেরিয়ে যায় পুরনো শরিক অকালি দল। কৃষি আইন ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে শিরোমনি অকালি দল। সেই জায়গা থেকে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের স্ট্রংম্যান অমরিন্দর যদি বিজেপির হাত ধরেন, তাহলে গেরুয়া বাহিনী পঞ্জাবের হৃত জমি পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কী ঘটেছে পঞ্জাবে?
জানা যায়, পঞ্জাবে অমরিন্দর ও সিধু সংঘাত ঘিরে কংগ্রেস যতটা নিজের দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে ছিল, ততটাই বিব্রত ছিল যে ২০২২ সালের আগে পার্টির পরিস্থিতি কীভাবে শুধরে বিরোধী বাদলগোষ্ঠীর শিরোমনি অকালিদলকে মাত দেওয়া যায় তা নিয়ে। এদিকে,২৩ জুলাই সিধু দায়িত্ব নেন পঞ্জাব কংগ্রেসের। পরে সেপ্টেম্বরেই দেন ইস্তফা। পরে তিনি কংগ্রেসের বড় পদে আসতেই অমরিন্দরের ডানা ছাঁটে 'হাত' শিবির। এই পরিস্থিতিতে পঞ্জাবে সুনীল জাখরকে অনেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এগিয়ে রাখলেও, অম্বিকা সোনিরা শিখ মুখ্যমন্ত্রীর দাবিতে অনড় থাকেন। সেই জায়গা থেকে এগিয়ে যান চান্নি, যিনি সিধু ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। পরে সিধুই পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন।












Click it and Unblock the Notifications