২০ ঘণ্টা শ্মশানের লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে দাহ করার সুযোগ, করোনার দ্বিতীয় ওয়েভে ছারখার দিল্লি
২০ ঘণ্টা শ্মশানের লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে দাহ করার সুযোগ
দিল্লিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। দেহ দাহ করার জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে শ্মশানঘাটগুলিতে। এরকম পরিস্থিতিতে উঁচু টিনের ছাদের নীচে, ৫০টি চিতায় দেহ দাহ করা হয় মঙ্গলবার। ধোঁয়া সহ গরম বাতাস, সূক্ষ্ম ছাই ও মৃতদেহ পোড়ার গন্ধের মধ্যে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের শেষযাত্রার সাক্ষী হল পরিবার।

শ্মশানে ছড়িয়ে রয়েছে মৃতদেহ
মেঝেতে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহ এবং শ্মশানের বাইরে দেহ নিয়ে অপেক্ষারত সার সার গাড়ি এবং তার ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে তাঁদের ১৬-২০ ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শেষকৃত্যের জন্য। করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারি 'দিলওয়ালো কা শহর' দিল্লির আত্মা ও অনুপ্রেরণাকে ঝাঁকিয়ে দিয়েছে। শ্মশানে উপচে পড়া কোভিড মৃতদেহ গোটা রাজধানীর বুকে অন্য এক শোকবার্তা বহন করছে। ম্যাসি ফিউনেরালসের কর্ণধার বিনীতা ম্যাসি বলেন, 'আমার জীবনে আমি এত খারাপ পরিস্থিতি দেখিনি। মানুষ তাঁর প্রিয়জনের দেহ নিয়ে চলেছে, প্রায় দিল্লির সব শ্মশানে মৃতদেহের ভিড়।'

একমাসে মৃত্যু তিন হাজারের বেশি
সরকারিভাবে জানা গিয়েছে যে এই এপ্রিল মাসে দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছে ৩,৬০১ জনের, যার মধ্যে গত সাতদিনে ২,২৬৭ জন মারা গিয়েছেন। দ্বিতীয় ওয়েভের আগে ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭ জনের এবং মার্চে ১১৭ জন। দিল্লির অবস্থা ক্রমশঃ ভয়াবহ হচ্ছে। আচমকা প্রিয়জনকে হারানোর শোক এক্ষেত্রে কিন্তু যথেষ্ট নয়, সেই প্রিয়জনকে সঠিকভাবে বিদায় না জানানোর আক্ষেপ শোকের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। পরিবার শুধু শ্মশানে দেহ রেখে ফিরে যাচ্ছে। বাবা, মা, ছেলে-মেয়ে, স্ত্রীয়ের মৃত্যুর পর তাঁদের দেহ মৃতদেহ বহনকারী গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্মশানে নিয়ে যাওযা হচ্ছে আর তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা দেহ দাহ করার। কোভিডে আক্রান্ত না হয়ে প্রিয়জনের মৃত্যু কিছুটা স্বস্তি দিলেও দিল্লিতে যে মহামারির প্রবাহ চলছে তাতে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অসুখে ভুগে মৃতদের পরিবারকেও ভুগতে হচ্ছে।

ভুগতে হচ্ছে সাধারণ অসুখে মৃতদের পরিবারকেও
পশ্চিম দিল্লির তরুণ এন্টারপ্রিনার এমন অরোরার বাবা এমএল অরোরা সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এমন বলেন, 'বাবার বুকে ব্যাথা করার পরই আমরা বহু বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরেছি কিন্তু স্বাস্থ্য কর্মীরা তাঁকে পরীক্ষা পর্যন্ত করেননি। তাঁরা কোভিড-নেগেটিভ রিপোর্টের দাবি করছিলেন। এরই মাঝে বাবা মারা যান।' সোমবার দিল্লির সুভাষ নগর শ্মশানের কর্মীরা জানিয়েছেন যে মঙ্গলবার সকালের আগে দেহ দাহ করা কাজ করা যাবে না। অমন উপলব্ধি করেন যে শ্মশান কর্মীদের অনুরোধ করে কোনও লাভ হবে না তাই তিনি দেহ রাখার জন্য ফ্রিজের বন্দোবস্ত করেন। মঙ্গলবার শ্মশানে তাঁর লাইন আসার অপেক্ষা করতে করতে অমন বলেন, 'আমি কি করব যদি শ্মশানে জায়গা না পাই। আমরা দেহটি ভাড়া করা ফ্রিজে রেখে দিই এবং আজকে খুব তাড়াতাড়ি এসে গিয়েছি।' তাঁরই মতো অসংখ্য মানুষ প্রিয়জনকে শেষবিদায় জানাতে শ্মশানে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

দিল্লির সব শ্মশানে মৃতদেহের ভিড়
শ্মশানের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা একেবারে ভর্তি, তার ওপর ক্রমাগত হর্নের শব্দে প্রাণ ওষ্ঠাগত শোকার্ত পরিবারগুলির। ভেতরে শুকনো কাঠের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, একসঙ্গে জ্বলছে ৫০টি চিতা। তার ওপর শ্মশান কর্মীদের রূঢ় ব্যবহার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের আরও হতাশ করে তুলছে। এক তরুণ কর্মীকে বলতে শোনা গেল, 'নিজের মৃতদেহ তোল আর ওদিকে লাইনে দাঁড়িয়ে যাও।' এক ৪০ বছরের মহিলা কোভিডে তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। বাবার শেষকৃত্য করতে এসে শ্মশান কর্মী তাঁকে চন্দনকাঠ দিতে বলেছিলেন মৃতদেহের ওপর। কিন্তু ওই মহিলা কোনটা নাভি বা বুক বুঝতে পারছিলেন না। দেহটি তখনও সাদা বস্তায় ভরা ছিল এবং সেটি না খুলেই চিতায় দেওয়া হয় দেহ। কাঁপা কাঁপা হাতে চন্দনকাঠ ধরে তিনি চিতার কাছে এগিয়ে যান। তিনি বলেন, 'আমি আমার বাবার মুখটাও দেখতে পারিনি।'

দেহ দাহ করতে ৯০ মিনিট সময়
সুভাষ নগর শ্মশানে সোমবার বহু দেহ দাহ করতে এসেও পরিবারের সদস্যরা ফিরে যান। কারণ সেই সময় কোনও জায়গাই দাহকাজ করার মতো খালি ছিল না। অন্যদিকে মধ্য দিল্লির সিএনজি শ্মশানে একবারে মাত্র ২টি দেহ দাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সিএনজি চেম্বারে এক-একটা দেহ দাহ করতে ৯০ মিনিট করে সময় লাগে আর ওই শ্মশানের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ২৪ দেহ।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications